মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ।। ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ৭ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
ভারতে ভ্রমণ-সতর্কতা জারির আহ্বান আবদুর রব ইউসুফীর ইসলামী আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের নতুন কমিটি ঘোষণা ‘আলেম-উলামাদের রাজনৈতিক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ভূমিকা পালন করতে হবে’ সাতক্ষীরায় তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে হত্যা, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নারী নিহত কুরআনের শিক্ষা ও সৌন্দর্যমণ্ডিত তেলাওয়াতের বার্তা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, ১৭ অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্কতা ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ আরও কঠোর করল যুক্তরাষ্ট্র জুলাই আন্দোলনে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি উম্মুল কুরা মহিলা মাদরাসার পরিচালকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন  প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে মাওলানা ইসলামাবাদী-ইকরামের নেতৃত্বাধীন জমিয়ত

নেত্রকোনার সীমান্তে পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত অন্তত ৪০ গ্রাম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক

ভারী বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তঘেঁষা নদ-নদী দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করায় অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন সড়ক, সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পানিতে ডুবে গিয়ে অসংখ্য পুকুরের পাড় ভেঙে চাষ করা মাছ ভেসে যাচ্ছে।

সোমবার (২০ জুলাই) গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, খারনই, রংছাতি ও লেঙ্গুরা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মহাদেও, গণেশ্বরী ও মংলেশ্বরী নদী দিয়ে মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুতগতিতে প্রবেশ করছে। এতে ইউনিয়নগুলোর অন্তত ৪০টি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। পানির তীব্র স্রোতে কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা যায়। 

খারনই ইউনিয়ন থেকে কলমাকান্দা উপজেলা সদরে যাওয়ার প্রধান সড়ক প্রায় ২০টি স্থানে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলার গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পুকুরের পাড় ডুবে গিয়ে মাছ ভেসে যাওয়ায় খামারিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাত থেকে হঠাৎ করে সীমান্তবর্তী নদীগুলো দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ শুরু হয়। রাতারাতি বিভিন্ন এলাকায় পানি ছড়িয়ে পড়ে এবং আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

খারনই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক বলেন, ‘গভীর রাত থেকে মংলেশ্বরী নদ ও কয়েকটি নালা দিয়ে প্রচণ্ড বেগে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করছে। অনেক গ্রামের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে, কোথাও কোথাও বাড়িঘরের ভেতর দিয়েও পানি যাচ্ছে। কলমাকান্দা শহরে যাওয়ার প্রধান সড়কসহ প্রায় সব রাস্তাই তলিয়ে গেছে। পানি ক্রমাগত বাড়ছে এবং অনেক পুকুরের মাছ ভেসে যাচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।’

রংছাতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান খান পাঠান বলেন, ‘মহাদেও নদ দিয়ে রাত থেকেই পানি ঢুকছে। কয়েকটি গ্রামের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক পুকুরের পাড় ডুবে গিয়ে মাছ বেরিয়ে গেছে।’

লেঙ্গুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া জানান, গণেশ্বরী নদী দিয়ে মেঘালয়ের পানি প্রবেশ করায় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত পানি বাড়ছে।

দুর্গাপুর উপজেলার গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের বন্ধঊশান গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘নেতাই নদীর পানি রাত থেকেই প্রবল স্রোতে ঢুকছে। আশপাশের পাঁচ-ছয়টি গ্রামের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অনেকের পুকুরের মাছ চলে গেছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে দিনের মধ্যেই বাড়িঘর প্লাবিত হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাখওয়াত হোসেন বলেন, ‘অবিরাম ভারী বৃষ্টি ও মেঘালয় থেকে পাহাড়ি ঢল নামায় নেত্রকোনার প্রায় সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। কলমাকান্দার উপদাখালী নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং আরও বাড়তে পারে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এ ছাড়া উজানের নেতাই নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে দুর্গাপুর উপজেলার গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।’

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামসুজ্জামান আসিফ বলেন, ‘সীমান্তবর্তী নদীগুলো দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশের খবর পেয়ে প্রশাসনের একটি দল ইতোমধ্যে খারনই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে। পরিদর্শন শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানা যাবে। আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে।’

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ