ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত সমঝোতা চুক্তির খসড়া পর্যালোচনার জন্য ইসরায়েল ওয়াশিংটনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল, তবে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১২। এর ফলে সম্ভাব্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এখনো তেল আবিবের কাছে অজানা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সমঝোতা স্মারকটি পর্যালোচনার সুযোগ চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেই অনুরোধে সাড়া দেয়নি। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা থাকলেও এর বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো ইসরায়েলের কাছে পৌঁছেনি।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে বলেন, তেল আবিব যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের কাছে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধই জানায়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনের তথ্যকে ‘ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, পুরো আলোচনাপ্রক্রিয়াজুড়ে ওয়াশিংটন ইসরায়েলসহ আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রেখেছে।
চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের প্রতিটি শব্দ নিজে পর্যালোচনা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে নথিটির বিষয়বস্তু কবে এবং কীভাবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—কোনো পক্ষই সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেনি। তবে ইরানের কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নথিটিতে ১৪টি ধারা রয়েছে। যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ধারাগুলোর মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিধিনিষেধ শিথিল, ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশটির পুনর্গঠন পরিকল্পনার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে এসব দাবির কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।Arabs &
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশের আগে বিভিন্ন পক্ষের দাবি ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু নিয়ে চলমান জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
জেডএম/
