শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :

ছয় মাসে ৫৩৫২ মক্তব প্রতিষ্ঠা করেছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতে গত ছয় মাসে ৫ হাজার ৩৫২টি নতুন দীনি মক্তব প্রতিষ্ঠা করেছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। একই সময়ে দেশটির ১৪ হাজার ৭০৮টি স্থানে কুরআন ও হাদিসের পাঠচক্র চালু করা হয়েছে। সংগঠনটির ‘রফিক’ বিভাগে যুক্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৪০০ তরুণ। এ ছাড়া সামাজিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের জন্য ৪৮৪টি গ্রাম নির্বাচন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজস্থানের জয়সালমির জেলার পোখরানে অবস্থিত দারুল উলুম ইসলামিয়ায় অনুষ্ঠিত সংগঠনটির নবম কেন্দ্রীয় ষান্মাসিক পরামর্শ সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। তিন দিনব্যাপী এ সভায় ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক দায়িত্বশীলরা অংশ নেন।

সভায় সংগঠনটির সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানি দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে বলেন, উম্মাহর সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং নতুন প্রজন্মকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। ব্যক্তিগত পরিচিতি, পদ-পদবি ও খ্যাতির চেয়ে দ্বীনি ও সামাজিক দায়িত্ব পালনকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় এপ্রিল থেকে অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ছয় মাসের সাংগঠনিক, শিক্ষামূলক ও সামাজিক কার্যক্রমের পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের জন্য বিভিন্ন বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ৫ হাজার ৩৫২টি মক্তব প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আগামী ছয় মাসে আরও ৫ হাজার ৩৩২টি মক্তব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে সংগঠনটির অধীনে ৬৩ হাজারের বেশি মক্তব পরিচালিত হচ্ছে।

কোরআন ও হাদিস শিক্ষার প্রসারে গত ছয় মাসে নতুন করে ৫ হাজার ৮৬০টি স্থানে কোরআনের পাঠ এবং ৮ হাজার ৮৪৮টি স্থানে হাদিসের পাঠ চালু হয়েছে। আগামী ছয় মাসে সামাজিক সংস্কারমূলক ৮ হাজার ৩৮৩টি সভা আয়োজনের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া তরুণদের সংগঠনের কার্যক্রম ও মানবসেবায় সম্পৃক্ত করতে আরও ৯ হাজার ৭৫৩ জনকে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় ও সামাজিক দিকনির্দেশনার কেন্দ্র হিসেবে ১ হাজার ৮০৬টি আদর্শ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসে এ সংখ্যা ২ হাজার ৫৫৬-তে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় ৩৫৬টি কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও ১ হাজার ৯১টি কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সামাজিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নের জন্য ৪৮৪টি গ্রাম নির্বাচনের পাশাপাশি আগামী ছয় মাসে আরও ৭৪৮টি গ্রামকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সাংগঠনিক কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গত ছয় মাসে ১১৫টি প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসে আরও ৩৮৬টি কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় পাঁচ হাজারের বেশি সাংগঠনিক সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় প্রধান বক্তব্যে মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও উম্মাহর প্রয়োজন ও বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে দায়িত্ব অনেক বিস্তৃত। তাই আরও আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করতে হবে। উম্মাহর জন্য আত্মত্যাগের মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এ চেতনা তৈরি হলে ব্যক্তিগত পরিচয় ও স্বার্থের গুরুত্ব আপনাআপনি কমে আসবে।

পূর্বসূরি আলেম ও মনীষীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সীমিত সামর্থ্য ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাঁরা অসাধারণ নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের আন্তরিকতা, ত্যাগ ও সেবার মানসিকতা নিজেদের জীবনে ধারণ করে সাংগঠনিক ও সামষ্টিক কাজ এগিয়ে নিতে হবে।

নতুন নেতৃত্ব তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি বলেন, তরুণদের কাজের সুযোগ দিতে হবে, দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে এবং এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে তাঁরা বর্তমান দায়িত্বশীলদের কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারেন। এর মাধ্যমে সংগঠনের বার্তা ও গঠনমূলক কার্যক্রম দেশের প্রতিটি গ্রাম ও জনপদে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অভিন্ন লক্ষ্য ও আদর্শে বিশ্বাসীদের সম্মিলিত কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

সংগঠনটির সহসভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ সালমান বিজনৌরি বলেন, ব্যক্তিগত খ্যাতি ও পরিচিতির পরিবর্তে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। কাজ ছোট হোক বা বড়, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করলেই তার প্রকৃত মূল্যায়ন হয়। শুধু পদ-পদবি ও বাহ্যিক খ্যাতি স্থায়ী নয়।

সভায় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের উত্তর প্রদেশ শাখার সভাপতি মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ আফফান মনসুরপুরি দ্বীনি শিক্ষা বোর্ড ও মক্তব কার্যক্রম নিয়ে প্রস্তাব ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন। মৌলিক দ্বীনি শিক্ষার প্রসার, নতুন মক্তব প্রতিষ্ঠা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমের কার্যকর তদারকির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে প্রাদেশিক ইউনিটগুলোর দায়িত্ব ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।

সভায় সংগঠনের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিবেদন ও উপস্থাপনা তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রম, সামাজিক সংস্কার, আদর্শ মসজিদ, তরুণদের সম্পৃক্তকরণ, প্রশিক্ষণ এবং আইনি সহায়তাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়।

তিন দিনব্যাপী এ পরামর্শ সভায় প্রতিটি ইউনিটে সামাজিক সংস্কার কমিটি গঠন, আদর্শ জেলাগুলোতে পারিবারিক পরামর্শকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং মানসম্মত মসজিদ গড়ে তোলার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়।

সভায় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল অংশ নেন। আয়োজক প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম ইসলামিয়া পোখরানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিচালকেরা অতিথিদের আপ্যায়ন ও সার্বিক সহযোগিতা করেন। সূত্র: সংগঠনের ফেসবুক পেইজ

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ