শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :

ইসলামি আইন বাস্তবায়নে বাধা ক্ষমতার লোভ ও স্বার্থ: মাওলানা ফজলুর রহমান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (এফ)-এর প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান বলেছেন, দেশে ইসলামি আইন বাস্তবায়নের পথে ধর্মীয় মতপার্থক্য বাধা নয়; বরং ক্ষমতার লোভ, দুনিয়াবি স্বার্থ এবং সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রবণতাই এর প্রধান প্রতিবন্ধক। তিনি বলেন, ইসলামি আইন প্রণয়নের বিষয়ে সব ধর্মীয় মতাদর্শের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। ইসলামি আদর্শ কাউন্সিলের ৯৯ শতাংশ সুপারিশ যখন সর্বসম্মত, তখন ইসলামি আইন বাস্তবায়নে বিলম্বের যৌক্তিকতা কী?

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পাকিস্তানের মুলতানের কিলা কাহনা কাসিমবাগ স্টেডিয়ামে আয়োজিত মুফতি মাহমুদ (রহ.) সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে তিনি ইসলামী আইন বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকা জরুরি। শাসকদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। একটি শক্তিশালী পক্ষ সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা করছে। কোন শক্তিগুলো সংসদীয়, গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাজনীতিকে বাধাগ্রস্ত করছে, তা বিশ্ব দেখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসলাম, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই দেশটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এখনো সেই লক্ষ্যগুলো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।

মুফতি মাহমুদ (রহ.)-এর অবদান স্মরণ করে জমিয়তপ্রধান বলেন, ঐতিহাসিক শহর মুলতানের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। এখান থেকেই উপমহাদেশে কোরআন-হাদিসের জ্ঞান ছড়িয়ে পড়েছে। মুফতি মাহমুদের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও চিন্তাগত দিকনির্দেশনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে। সারাইকি অঞ্চলের মানুষ তাঁর সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে গর্ব করতে পারে।

তিনি বলেন, মুফতি মাহমুদ সারা জীবন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও আদর্শ রক্ষায় কাজ করেছেন। ইসলামী আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও তিনি ঐকমত্যের পথ অনুসরণ করেছেন। প্রস্তাবিত লক্ষ্যসংক্রান্ত প্রস্তাব, সংবিধানের ইসলামী বিধান এবং ইসলামী আইন প্রণয়নের মৌলিক নীতিতে সব ধর্মীয় মতাদর্শের ঐকমত্য রয়েছে। দেশের সব আইন কোরআন ও সুন্নাহর অধীন হওয়া উচিত।

মাওলানা ফজলুর রহমান আরও বলেন, ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি, ভূস্বামী, পুঁজিপতি ও আমলাতন্ত্রকে বুঝতে হবে, ইসলামী ব্যবস্থা বাস্তবায়নের পথে প্রকৃত বাধা কোথায়। মুফতি মাহমুদ নবাব, ভূস্বামী ও আমলাতন্ত্রের অহংকার চূর্ণ করেছিলেন। তিনি নীতির প্রশ্নে আপস করার পরিবর্তে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে জমিয়তপ্রধান বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠতার অধিকার স্বীকার না করার পরিণতি দেশকে ভোগ করতে হয়েছে। ১৯৭৩ সালে বেলুচিস্তানের সরকার বিলুপ্ত করে গভর্নর শাসন জারি করা এবং তৎকালীন উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে গভর্নর পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। সূত্র: রোজনামায়ে জং

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ