বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ ।। ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১৮ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
ঢাকা মহানগরীতে দিনের বেলায় ২ শিফটে বর্জ্য পরিষ্কারের নির্দেশ হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নতুন কর্মসূচি বেফাকের ১২২ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল দ্বীনি চেতনা পরিষদ মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা: বাড়ছে তেলের দাম অবহেলায় মায়ের মৃত্যু, শাস্তির মুখে সেই যুগ্ম সচিব কিশোরগঞ্জে খেলাফত ছাত্র মজলিসে যোগ দিলেন ৩৬ শিক্ষার্থী শাহজালালে ১৫০ হাজির লাগেজ কাটার অভিযোগ, তদন্তে কর্তৃপক্ষ রুমিন ফারহানার মন্তব্যের নিন্দা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউরোপের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জনজীবনে নতুন সংকট তৈরি করবে: খেলাফত মজলিস গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সর্বপ্রথম রাজপথে নেমেছি আমরা: আমিরে মজলিস

আলসেমি দূর করার কার্যকর উপায়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

অলসতা মানবজীবনের নীরব অভিশাপ। এটি ব্যক্তির সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে দেয়, থামিয়ে দেয় উন্নতির গতি। দীর্ঘদিন অলসতায় অভ্যস্ত থাকলে শুধু কাজের প্রতি অনীহাই নয়, ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও। ফলে মানসিক ও শারীরিক, উভয় দিক থেকেই ব্যক্তি চলে যায় অবক্ষয়ের পথে।

তবে চাইলে কিছু সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে অলসতাকে জয় করে গড়ে তোলা যায় কর্মচঞ্চল ও ইতিবাচক জীবন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অলসতা দূর করতে প্রথমেই প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম। প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুম শরীর ও মনকে রাখে সতেজ। ঘুম থেকে উঠে মুখে প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়ার অভ্যাস শরীরে এনে দেয় তাৎক্ষণিক সজীবতা।

নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম অলসতা দূর করার অন্যতম কার্যকর উপায়। প্রতিদিন ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা হাঁটা, দৌড় বা হালকা ব্যায়াম শরীরকে চাঙ্গা রাখে এবং কাজে মনোযোগ বাড়ায়। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসও হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত। সবুজ শাক-সবজি, ফলমূল ও আঁশজাতীয় খাবার বেশি খেলে শরীর থাকে হালকা ও কর্মক্ষম।

এ ক্ষেত্রে তৈলাক্ত ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
নিজের বাড়ি ও কর্মক্ষেত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা মানসিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে কাজের আগ্রহ বাড়ে এবং কর্মোদ্যম তৈরি হয়। একই সঙ্গে প্রতিদিনের শুরুটা হওয়া উচিত ইতিবাচক মনোভাব দিয়ে। নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে, ‌‌‘আমি পারবো।


মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অনুপ্রেরণামূলক গান বা সুর শোনা মনকে রাখে ফুরফুরে। একঘেয়ে পরিবেশ ভাঙতে ঘরের ভেতর সবুজ গাছ, প্রিয় ছবি বা শোপিস সাজানো যেতে পারে। এতে কাজের পরিবেশ হয় প্রাণবন্ত।

অলসতা কাটাতে ইতিবাচক মানুষের সঙ্গও গুরুত্বপূর্ণ। যারা সব সময় সাহস, অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেন, তাদের সান্নিধ্যে থাকলে নিজের মধ্যেও তৈরি হয় কাজের শক্তি। পাশাপাশি যেকোনো বিষয় সহজভাবে ভাবার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সহজ চিন্তা ও সহজ সমাধানই অনেক সময় সাফল্যের পথ দেখায়।

কাজের ক্ষেত্রে কর্মতালিকা প্রণয়ন অত্যন্ত কার্যকর। কোন কাজটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটি আগে নির্ধারণ করে নেওয়া উচিত। সহজ কাজ দিয়ে শুরু করলে ধীরে ধীরে কঠিন কাজেও আগ্রহ তৈরি হয়। বড় লক্ষ্যকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিলে কাজটি আর কঠিন মনে হয় না।

সময় ব্যবস্থাপনাও অলসতা দূর করার বড় হাতিয়ার। প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে এবং এক কাজের সময় অন্য কাজে মনোযোগ নষ্ট করা যাবে না। অবসর সময়েও এমন কাজে যুক্ত থাকা ভালো, যা অনুপ্রেরণা জোগায়, যেমন বই পড়া, লেখালিখি বা ছবি আঁকা।

সবশেষে বলা যায়, অলসতা কোনো জন্মগত বৈশিষ্ট্য নয়, এটি একটি অভ্যাস। আর অভ্যাস বদলানো সম্ভব। সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত চর্চা ও ইতিবাচক মানসিকতাই পারে অলস জীবনকে বদলে দিতে কর্মমুখর ও সফল জীবনে।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ