শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ।। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ৬ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে কোটচাঁদপুরে হেফাজতের বিক্ষোভ মিছিল খাগড়াছড়িতে ক্বওমি মাদ্রাসা ও ওলামা ঐক্য পরিষদের নবীন আলেম সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হজ করতে সৌদি আরব গেলেন সেনা প্রধান সিলেট-৫ আসনের সাবেক এমপির শয্যাপাশে মুফতি আবুল হাসান রাত ১টার মধ্যে ১১ অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ের শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের বৈঠক হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কঠোর সতর্কতা আমিরাতের ‘দ্রুতবিচারের দাবিকে মধ্যযুগীয় বলে জনতার সঙ্গে উপহাস করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ মসজিদে হারামের খুতবায় হজের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান ‘ধর্ষকের প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডকে মধ্যযুগীয় বলা ইসলামি মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা’

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ঘোষণাপত্র, ঐক্যের ডাক

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি, ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িকতা এবং মুসলিম ও ইসলামিক প্রতীকগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়ে একটি বিশেষ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সম্প্রতি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির দুই দিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এই যৌথ ঘোষণা জারি করা হয়।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানীর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত এই ঘোষণাপত্রে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও হুঁশিয়ারি উত্থাপন করা হয়েছে।

ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ঘৃণা ও হুমকির রাজনীতি এবং মুসলিমদের অবস্থান

ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীরবতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘৃণা ও বিদ্বেষের রাজনীতি এখন সরাসরি হুমকিতে রূপ নিয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য মুসলমানদের মনে ভয়ভীতি তৈরি করে তাদের অধিকার খর্ব করা। তবে জমিয়ত স্পষ্ট জানিয়েছে, মুসলমানরা ভালোবাসার কাছে মাথা নত করতে পারে, কিন্তু কোনো শক্তি, হুমকি বা জুলুমের সামনে কখনোই মাথা নত করবে না।

২. ক্ষমতার লোভ ও সাংবিধানিক অবক্ষয়

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কিছু রাজনৈতিক নেতার মধ্যে ঘৃণার ভিত্তিতে ক্ষমতা লাভের লোভ তীব্র হয়েছে। বহুত্ববাদী সমাজকে আঘাত করে সংখ্যাগরিষ্ঠ বনাম সংখ্যালঘু দ্বন্দ্ব তৈরি করা হচ্ছে। অথচ একটি গণতান্ত্রিক সরকার ভয় বা হুমকির ভিত্তিতে নয়, বরং ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তিতে চলা উচিত। আইন রক্ষাকারীরা এক্ষেত্রে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

৩. বৈষম্যমূলক নীতি ও অসাংবিধানিক বক্তব্য

ঘোষণাপত্রটিতে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি বক্তব্যের (যেখানে তিনি কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়) তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়েছে, এ ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। ক্ষমতায় বসা ব্যক্তিদের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি করা নয়।

৪. ইউসিসি, এনআরসি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত

দেশকে একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে জমিয়ত। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করা, মসজিদ ও মাদরাসার বিরুদ্ধে একতরফা আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং এনআরসির (NRC) নামে প্রকৃত নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ তার আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াই জারি রাখবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে।

৫. ইসলামের ওপর সুপরিকল্পিত অপপ্রচার

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ২০১৪ সালের পর থেকে তৈরি হওয়া বিভিন্ন আইন ও সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে যে, বর্তমান নীতি কেবল মুসলমানদের সামাজিক ক্ষতি করছে না, বরং সরাসরি ইসলাম ধর্মকে নিশানা করছে। বিশ্বজুড়ে ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হলেও, ইতিহাস সাক্ষী যে যারা ইসলামকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে তারাই হারিয়ে গেছে। ইসলাম সবসময় টিকে থাকবে।

৬. গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

ঘোষণাপত্রের শেষাংশে দেশের সমস্ত ন্যায়পরায়ণ রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং দেশপ্রেমিক নাগরিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। জমিয়ত বলেছে, ফ্যাসিবাদী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে গণতান্ত্রিক ও সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশের সম্প্রীতি, সহনশীলতা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ন্যায়বিচার এবং সর্বোপরি সংবিধানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে লড়াই করার জোর দাবি জানিয়ে সভা সমাপ্ত করা হয়।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ