শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ।। ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৭ সফর ১৪৪৮


নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে পৌঁছেছে হামাস, ‘যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ বললেন ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও অন্যান্য গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে। এ লক্ষ্যে উপত্যকা পরিচালনার জন্য গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ চুক্তিকে শান্তি ও নিরাপত্তার পথে ‘একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল জাজিরা বৃহস্পতিবার চুক্তির একটি অনুলিপি পেয়েছে। চুক্তিতে ১৪ দিনের মধ্যে নিরস্ত্রীকরণের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রস্তুতের কথা বলা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক যাচাইকারী সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে এর মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে।

বৈঠকে হামাসের প্রতিনিধি দলের সদস্য গাজী হামাদ বলেন, এই আলোচনাগুলো ছিল কঠিন ও শ্রমসাধ্য। আমরা অর্জনযোগ্য সর্বোত্তম উপায়ে এ বিষয়টির সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে হামাস চুক্তির কোনো অংশই বাস্তবায়ন করবে না। গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠনে অগ্রগতির ওপর নিরস্ত্রীকরণ নির্ভর করছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তিকে ‘বোর্ড অব পিসের’ একটি সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। গাজার শাসনব্যবস্থা তদারকির জন্য এ বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তিটি গাজায় নতুন ফিলিস্তিনি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি ফিলিস্তিনি জনগণকে সহায়তা করার জন্য ‘বোর্ড অব পিসের’ সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে গাজাকে আর সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার না করায় ইসরায়েল তার প্রাপ্য নিরাপত্তা পাবে।

‘বোর্ড অব পিসের’ এক কর্মকর্তা বলেন, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী গাজা পরিচালনার জন্য গঠিত একটি জাতীয় কমিটির কাছে তাদের অস্ত্র হস্তান্তর করবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে পুলিশের কাছে থাকা অস্ত্র হস্তান্তর করা হবে। এরপর ভারী অস্ত্রগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজায় সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। তবে তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সময় লাগবে।

ট্রাম্প বলেন, নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। তাদের পরিবর্তে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির অধীনে গাজা শেষ পর্যন্ত এমন একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে আসবে, যা তার জনগণের সেবা করবে।

গত সপ্তাহের শেষভাগ থেকে হামাসের নেতারা মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য মিশরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থান করছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হামাস কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, আলোচনা ইতিবাচক এবং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

মিশরের আল-কাহিরা নিউজের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতির রোডম্যাপের দ্বিতীয় পর্বের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মিশর শিগগিরই কায়রোতে মিশর, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের নিয়ে আরও একটি বৈঠকের আয়োজন করবে।

একটি নির্ভরযোগ্য মিশরীয় সূত্রের বরাত দিয়ে সম্প্রচারকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি দল আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন এবং জাতীয় কমিটির কার্যক্রম শুরু করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ বলেছে, দলগুলো ও ইসরায়েলের মধ্যে চুক্তি হওয়ার খবর সঠিক নয়। বর্তমানে প্রচারিত শব্দচয়ন নিয়েও তাদের আপত্তি রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ