শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
মুফতি নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে এনসিপি ইসলামি শ্রমনীতি ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান ৩০ পেরিয়েছেন? সুস্থ থাকতে গড়ে তুলুন ৭ অভ্যাস জমজমের বরকতে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা দেশমাতৃকা উলামায়ে কেরামের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে: মুফতি আবুল হাসান এমপি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজদের মধ্যে ব্রেইল কুরআন ও সাদাছড়ি বিতরণ দেশে ফিরেছেন সৌদি আরবে আটকে পড়া ৫০ ওমরাহযাত্রী মাওলানা নূরুল হক রহ.-এর কবর জিয়ারত করলেন খেলাফত মজলিস আমির ঢাবির গবেষকদের ‘স্মার্ট ফাঁদে’ শনাক্ত হবে এডিস মশার বিস্তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

সাঈদ আনোয়ারের সান্নিধ্যে যেভাবে ইসলামের পথে মোহাম্মদ ইউসুফ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইউসুফ ইসলাম গ্রহণের পেছনের একটি স্মরণীয় ঘটনা তুলে ধরেছেন। পাকিস্তানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার সাঈদ আনোয়ারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ, একটি পারিবারিক দাওয়াত এবং পরে পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে।

মোহাম্মদ ইউসুফের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলাম গ্রহণের আগে সাঈদ আনোয়ার দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁকে মেসেজ পাঠাতেন। তবে তখন তিনি বুঝতে পারতেন না, সাঈদ আনোয়ার কেন তাঁর সঙ্গে এত বেশি যোগাযোগ করছেন।

এক বড়দিনে ইউসুফ সাঈদ আনোয়ারকে নিজের বাড়িতে দাওয়াত দেন। সাঈদ আনোয়ার দাওয়াত গ্রহণ করে তাঁর বাড়িতে যান। কিছুক্ষণ কথাবার্তার পর ইউসুফ তাঁর গৃহকর্মীকে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার নিয়ে আসতে বলেন।

এ সময় সাঈদ আনোয়ার তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনাদের বাড়িতে কি খাবার রান্না হয়নি?’

জবাবে ইউসুফ বলেন, বাড়িতে খাবার রান্না হয়েছে। তবে তাঁর স্ত্রী নিজ হাতে খাবার রান্না করেন এবং তিনি শুনেছেন, মুসলমানরা অমুসলিমের হাতে তৈরি খাবার খান না।

এ কথা শুনে সাঈদ আনোয়ার বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ইসলামে এমন কোনো বিধান নেই। তিনি বাড়ির রান্না করা খাবারই আনতে বলেন। পরে সেই খাবার দুজন মিলে খান।

ইউসুফ জানান, ওই সাক্ষাতের পর তাঁর মনে ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর তিনি ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি সাঈদ আনোয়ারের কাছে অনুবাদসহ কোরআন চেয়ে নেন। সাঈদ আনোয়ার এতে আনন্দিত হয়ে নিজেই তাঁর জন্য অনুবাদসহ কুরআন নিয়ে আসেন।

প্রায় ছয় মাস ধরে কোরআন অধ্যয়ন করেন মোহাম্মদ ইউসুফ। তাঁর ভাষ্য, কুরআন পড়ার পর তাঁর মনে বিশ্বাস জন্মে—এটি কোনো সাধারণ গ্রন্থ নয়; বরং আল্লাহ তাআলার কিতাব।

এ সময় তাঁর স্ত্রীও তাঁর সঙ্গে কুরআন অধ্যয়ন করতেন। পরে দুজন পরামর্শ করে সাঈদ আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে সিদ্ধান্তটি তাদের জন্য সহজ ছিল না। ইউসুফ জানান, ইসলাম গ্রহণের পর পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারেন—এমন আশঙ্কা তাদের ছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁরা কালেমা পড়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।

এ অবস্থায় সাঈদ আনোয়ার তাদের সাহস দেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা অবিচল থাকুন, একদিন আপনাদের পরিবারের সদস্যরাও ইসলাম গ্রহণ করবেন।’

মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, পরবর্তী সময়ে সাঈদ আনোয়ারের সেই কথা সত্যি হয়। তাঁর ভাইসহ পরিবারের আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পরে ইসলাম গ্রহণ করেন।

ক্রিকেটার হিসেবে দীর্ঘ ও বর্ণিল ক্যারিয়ারের জন্য পরিচিত মোহাম্মদ ইউসুফ ২০০৫ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন বলে তাঁর জীবনীসংক্রান্ত বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি তাঁর ধর্মীয় পরিচয় ও বিশ্বাসের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ