আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আজারবাইজানে সরকারি স্কুলের পোশাকবিধি নিয়ে হিজাব বিতর্ককে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী বাকুসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় স্কুলছাত্রী ও অভিভাবকদের প্রতিবাদের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৩৭ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, হিজাবসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের পক্ষ থেকেও আপত্তি জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নেভি ব্লু রঙের হিজাব পরা এক স্কুলছাত্রী বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে কথা বলছে। এ সময় পেছনে থাকা সহপাঠীরা তাকে সমর্থন জানায়। ভিডিওতে ওই ছাত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি আমাকে স্কুলে ঢুকতে দেবেন না বলছেন? শিক্ষার জন্য কেন আমাকে আমার ধর্ম ত্যাগ করতে হবে?’
গত সোমবার আজারবাইজানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন পোশাকবিধি কার্যকর করতে শুরু করলে এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে গৃহীত এ বিধিতে সরকারি স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করার কথা সরাসরি বলা হয়নি। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মনিরপেক্ষ নীতির পরিপন্থী পোশাক পরা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম প্রযোজ্য করা হয়।
এরপর রাজধানী বাকুর বাইরে বালাখানি এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় মাসাল্লি ও চালিলাবাদ জেলায় স্কুলের সামনে প্রতিবাদে নামেন ছাত্রী ও অভিভাবকেরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজারবাইজানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শাহিজা হুসেইনোভা নামের এক প্রতিবাদী মা রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার স্বামী জার্মানিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ময়দান টিভিকে জানিয়েছেন, পুলিশ তার স্ত্রীকে হুমকি দিয়ে বলেছে, সন্তানকে হিজাব খুলে স্কুলে পাঠাতে হবে, অন্যথায় কারাগারে যেতে হবে।
এ ছাড়া ‘লেইলিকে স্কুলে যেতে দাও’ নামে একটি অনলাইন শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম চালু করা অধিকারকর্মী ইলকিন হুসেইনভকেও পুলিশ আটক করেছে বলে তার স্বজনেরা দাবি করেছেন।
সরকারের যুক্তি, তুরস্কের আপত্তি
আজারবাইজান সরকার নতুন পোশাকবিধির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলছে, ছোট শিশুরা অনেক সময় নিজের সিদ্ধান্তে হিজাব পরে না; বরং পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ওপর এ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়।
তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছে দেশটির ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্ক। দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে ‘এক জাতি, দুই রাষ্ট্র’ নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রধান উপদেষ্টা ওকতাই সারাল আজারবাইজানের পদক্ষেপকে ‘একেবারে গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, মাথার স্কার্ফ শিক্ষার পথে কোনো বাধা নয়; বরং এটি বিশ্বাসের একটি অপরিহার্য অংশ।
এর জবাবে আজারবাইজানের ক্ষমতাসীন নিউ আজারবাইজান পার্টি তুর্কি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তথ্যসন্ত্রাস ও দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে।
এদিকে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভও দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্যদের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে বলেছেন, তাদের জীবনযাত্রায় কারও নাক গলানো উচিত নয়।
হিজাবকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ বিতর্ক এখন দেশটির শিক্ষা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন ছাড়িয়ে আজারবাইজান-তুরস্ক সম্পর্কেও নতুন টানাপোড়েন তৈরি করেছে।
এসএইচ/