শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৭ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত ১১ এপ্রিল ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি ইসলামী আন্দোলনের ‘গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’  ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকা মার্কিন কংগ্রেসে জোরালো হচ্ছে ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি দৌলতদিয়ায় বাসডুবিতে নিহত ২৬ জনের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে: মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র ভারতের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ

দারুল উলুম ওয়াক্ফ দেওবন্দে কাবা শরিফের গিলাফ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতী আবদুল কাদের মাহমুদ কাসেমী

পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ—যা ‘কিসওয়াহ’ নামে খ্যাত—ইসলামি ঐতিহ্যের এক অতুলনীয় নিদর্শন। এই গিলাফ সুগভীর ভাবগাম্ভীর্যে মোড়ানো এক পবিত্র প্রতীক, যা কালো রঙের মখমলি কাপড়ে আচ্ছাদিত। আর তাতে সোনালি সূচিকর্মে অঙ্কিত থাকে আল্লাহর কালাম—পবিত্র কুরআনের মনোমুগ্ধকর আয়াতসমূহ। প্রতি বছর হিজরি নববর্ষের প্রথম প্রহরে পুরোনো গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফে মোড়ানো হয় কাবাঘরকে। এই পুরোনো গিলাফ, যা পুরো এক বছর সময় ধরে বিশ্বের মুসলমানদের হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে শোভিত থাকে, এক সময় তা রাখা হয় সৌদি সরকারের বিশেষ সংরক্ষণে অথবা উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় বিশিষ্ট ও প্রতিযশা ব্যক্তিবর্গের হাতে বা সম্মানসূচক উপহার হিসেবে প্রেরণ করা হয় বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

এই মহাসৌভাগ্যের ধারাবাহিকতায় চলতি বছর ১৪৪৭ হিজরি/২০২৫ ঈসায়িতে কাবা শরিফের গিলাফের একটি মহামূল্যবান খণ্ড উপহারস্বরূপ প্রদান করা হয়েছে উপমহাদেশের অগ্রগণ্য ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম ওয়াক্ফ দেওবন্দকে। যা নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক গৌরব ও বরকতময় প্রাপ্তি।

এই পবিত্র ‘কিসওয়াহ’ বর্তমানে দারুল উলুম ওয়াক্ফ দেওবন্দের ‘ফরুদগাহে সালেহীন’ নামে জাঁকজমকপূর্ণ অতিথিশালার দেওয়ালে আলোকরশ্মি পুঞ্জীভূত একটি কাচের ফ্রেমে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও যত্নের সঙ্গে সংরক্ষিত রয়েছে। এর অলৌকিক সৌন্দর্য ও পবিত্রতা প্রত্যক্ষ করতে দূরদূরান্ত থেকে আগত ধর্মপ্রাণ দর্শনার্থীরা হারিয়ে যান হারাম শরিফের নুরানি পরিবেশে—স্বপ্নের তীর্থভূমির এক আবেগঘন ছায়ায়।

১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে হিন্দুস্থানের প্রসিদ্ধ দুই মনীষী আল্লামা সালেম কাসেমী রহ. (সাহেবজাদা: আল্লামা ক্বারী মুহাম্মদ তৈয়্যব সাহেব রহ.) ও আল্লামা আনযার শাহ কাশ্মীরী রহ. (সাহেবজাদা: আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী রহ.)-এর হাতেগড়া প্রতিষ্ঠিত দ্বীনি প্রতিষ্ঠানটি এত অল্প সময়ে বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন ও এই গৌরবময় প্রাপ্তির অন্তরালে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মুহতামিম আল্লামা সুফিয়ান কাসেমী (পৌত্র: আল্লামা ক্বারী মুহাম্মদ তৈয়্যব সাহেব রহ.)-এর দূরদৃষ্টি, আত্মনিবেদন এবং নিরলস পরিশ্রম। তাঁর সুনিপুণ পরিচালনায় আজ দারুল উলুম ওয়াক্ফ দেওবন্দ শুধু উপমহাদেশেই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী ইসলামি জ্ঞানের একটি দীপ্তিমান আলোকস্তম্ভ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক মর্যাদা, শিক্ষার গুণগত উৎকর্ষ এবং বহুমুখী দ্বীনি খেদমতের প্রতি অনুপ্রাণিত হয়েই সৌদি সরকার প্রদান করেছে এই অমূল্য তোহফা।  

এই পবিত্র ও সম্মানিত উপহার দারুল উলুম ওয়াক্ফ দেওবন্দকে বিশ্ব মানচিত্রে এমন এক অভূতপূর্ব মর্যাদার শিখরে পৌঁছে দিয়েছে, যা উপমহাদেশের সীমা অতিক্রম করে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে এক অবিনশ্বর আস্থা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, দারুল উলুম দেওবন্দ, ইউ.পি. ইন্ডিয়া

এমএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ