পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেশের প্রান্তিক ও দুর্গম অঞ্চলের অভাবী রোজাদারদের সহায়তায় ২৩৩ মেট্রিক টন ইফতার সামগ্রী নিয়ে দেশজুড়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। ৩৩ হাজার ৩০০ পরিবারের জন্য প্রস্তুত করা এসব প্যাকেজ সরাসরি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বিশাল এ কর্মযজ্ঞের চিত্র উঠে আসে। সেখানে দেখা যায়, ফাউন্ডেশনের কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মুসল্লি ও স্বেচ্ছাসেবীরাও সওয়াবের আশায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্যাকেজিং কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
হাজার হাজার ব্যাগে ছোলা, ডাল, তেল, খেজুর ও মুড়ি সুশৃঙ্খলভাবে প্যাকেটজাত করা এবং ট্রাকে লোড করার প্রতিটি ধাপে ছিল সম্মিলিত শ্রম ও আন্তরিকতার ছাপ।
এবার বিতরণ পদ্ধতিতে ভিন্নতা এনেছে ফাউন্ডেশনটি। সহায়তা নিতে উপকারভোগীদের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো না করে প্রতিনিধিরাই পৌঁছে যাচ্ছেন তাঁদের বাড়ির দুয়ারে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রমজানের শুরু থেকেই দেশের ৬৪ জেলার দুর্গম চরাঞ্চল ও পাহাড়ি জনপদে ট্রাকযোগে খাদ্যসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। উপকারভোগীদের আত্মসম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতেই এ ‘ডোর-টু-ডোর’ পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।
একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের মাসব্যাপী ইফতারের চাহিদা বিবেচনায় প্রতিটি প্যাকেজ সাজানো হয়েছে। প্রতিটি ব্যাগে রয়েছে-
২ কেজি ছোলা
২ কেজি মসুর ডাল
১ লিটার সয়াবিন তেল
১ কেজি উন্নত মানের খেজুর
১ কেজি মুড়ি
মোট খাদ্যসামগ্রীর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩৩ মেট্রিক টন।
খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি এবারই প্রথম প্রতিটি প্যাকেটে যুক্ত করা হয়েছে ‘মাহে রমজানের ২৭ আমল’ শীর্ষক একটি বই। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা রমজানে সুন্নাহসম্মত আমল সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন, যা এই উদ্যোগে একটি আধ্যাত্মিক মাত্রা যোগ করেছে।
নির্বাচনী ছুটির মধ্যেও এই কার্যক্রম থেমে থাকেনি। আস-সুন্নাহ স্কিলের শিক্ষার্থী, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও সাধারণ মুসল্লিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কেবল খাদ্য বিতরণ নয়; বরং সমাজে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও আমানতদারিতার এক বাস্তব দৃষ্টান্ত।
এক নজরে ইফতার প্রকল্প ২০২৬
উপকারভোগী: ৩৩,৩০০ পরিবার
মোট খাদ্যসামগ্রী: ২৩৩ মেট্রিক টন
বিতরণ পদ্ধতি: সরাসরি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া
অংশগ্রহণ: কর্মী, স্বেচ্ছাসেবী ও সাধারণ মুসল্লিদের সম্মিলিত শ্রম
আইএইচ/