শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৭ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২২ শাওয়াল ১৪৪৭


রমজান পরবর্তী শিক্ষা ও করণীয়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| আল আমীন বিন সাবের আলী ||

এক: তাকওয়া অর্জনের মাস রমজানে রহমত মাগফেরাত ও নাজাত হাসিলপূর্বক তাকওয়া অর্জন করে বাকি এগারো মাস তাকওয়াময় জীবন যাপন করা। আমাদের বেলায় হয় এর উল্টো। অর্থাৎ, এগারো মাস শয়তানের ওয়াসওয়াসার চক্রে ঘুরতে ঘুরতে লাটিমের মতো আমাদের দশা হয়ে যায়। ফলে এই মহিমান্বিত তাকওয়ার মাসেও আমরা তাকওয়ার সুরত ধরতে ধরতে (অথচ অধরা অবস্থায়ই) পুরো মাস কাটিয়ে ফেলি। আল্লাহর পানাহ!

দুই: এক মাসের রোজা উদযাপনের দ্বারা বাকি এগারো মাসেও রোজার আমল বজায় রাখা। বিশেষ করে (শাওয়ালের ছয় রোজাসহ) প্রতি আরবি চাঁদের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখে এই তিন দিন আইয়ামে বীজের রোজা পালন করা।

তিন: কোরআন নাজিলের মাসে কোরআন শরীফ ব্যাপক তেলাওয়াত করা ও তেলাওয়াত শোনার বরকতে পুরো বছর কোরআন তেলাওয়াত করা ও তার হক আদায় করে চলা।

চার: রমজান মাসের বরকতে দেহ ও মন পবিত্রতার যে একটি আবহ তৈরি হয় এবং এর ফলে মানবজীবনের যে শুদ্ধি ঘটে তা বাকি পুরা বছর ধরে রাখার চেষ্টা করা।

পাঁচ: আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিতে রমজান মাসে যাকাত প্রদানের মাধ্যমে সম্পদ পবিত্র করা ও অন্তরকে বুখল (কৃপণতা) নামক রোগ থেকে পরিশুদ্ধির যে চর্চা আমরা করে থাকি, তা বাকি পুরা বছর অব্যাহত রাখা।

ছয়: রমজান মাসকে কেন্দ্র করে আমরা যে সকল তসবিহ বা জিকির পালন করে থাকি, বাকি পুরো বছর এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।

সাত: রমজান মাসে আমরা দানের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে থাকি। মুক্ত হস্তে এই দানের অভ্যাসটা সারা বছর জারি রাখা।

আট: রমজানে আমরা অপরকে ইফতার করানোর মাধ্যমে হাদিসে বর্ণিত 'আতয়িমুত তোয়াম' বা 'মান ফাত্তারা সায়িমান' -এর যে আমল করেছিলাম এর গুরুত্ব অনুধাবন করে সারা বছর এর অভ্যাস চালু রাখতে পারি।

নয়: রমজান মাসে আমরা যেভাবে নামাজের নিয়মানুবর্তিতার প্রতি লক্ষ রাখার অভ্যাসটা করেছিলাম, সেটা আর না ছাড়া।

দশ: রমজান মাস উপলক্ষে শয়তান আল্লাহ পাকের কুদরতি জিনজিরে আবদ্ধ ছিলো। রমজান শেষ হওয়ার পরপরই তারা আবার ছাড়া পেয়েছে। সুতরাং শয়তানকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করা। দুশমন হিসেবেই তাকে চেনা ও জানা। এবং তার ওয়াসওয়াসা থেকে সর্বোচ্চ সর্তকতা গ্রহণের বিষয়টি মাথায় রাখা।

এগারো: রমজান মাসে আন্তরিকভাবে অসংখ্য-অগণিত কৃত আমলগুলো বিনষ্ট না করা।

বারো: হেদায়াতের উপর চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা মেহনত মুজাহাদা অব্যাহত রাখা। এবং এর মোকাবেলায় গোমরাহী বা পথভ্রষ্টতা গ্রহণ না করা।

তেরো: উপরোক্ত সকল আমল প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালামের সুন্নত মোতাবেক পালন করা। সুন্নত তরিকার বাইরে কোনো আমল না করা।

চৌদ্দ: আর এ সকল আমলের সাথে জুড়ে থাকার আল্লাহ প্রদত্ত নির্দেশনা হচ্ছে, আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবত ইখতিয়ার করা।

পনেরো: সর্বোপরি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইখলাসের সবক গ্রহণ করা। এবং জীবনের প্রতিটি আমল ইখলাসের সহিত পালন করা।

আল্লাহপাক আমাদেরকে পবিত্র রমজানুল মোবারকের শিক্ষা ধারণ করে উপরোক্ত আমলগুলোর ব্যাপারে যত্নশীল হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন!

লেখক: পরিদর্শক, বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক)

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ