সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলা: নিহত ১, আহত ১১ স্ত্রীর মৃত্যুর সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নামাজরত অবস্থায় প্রাণ হারালেন স্বামী সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির ১৩ জনই ওমরাহযাত্রী ১২ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি জরুরি অবস্থা জারির কড়া সমালোচনা মাওলানা ফজলুর রহমানের মাহবুবা হাকিম এমপির বরাদ্দ ক্রীড়া সামগ্রী কিশোরদের মধ্যে বিতরণ নির্বাচন কমিশনার আইন নিয়ে আমাদের আশঙ্কা সত্যি হচ্ছে: ওয়াইসি ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে মাদরাসাগুলোকে বোর্ডের নির্দেশ রিয়াদে হামলায় নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের শোক-প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় হিরার সাফল্যে বিএনপির অভিনন্দন

এবারের হজে কুরবানি নিয়ে জটিলতার সমাধান দিলেন মুফতি তাকী উসমানী


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

চলতি বছর সৌদি সরকার হজে নতুন নিয়ম করেছেন—কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপের কুরবানি করার অনুমতি নেই। সকল হাজির কুরবানি হবে সৌদি সরকারের অধীনে। হাজিগণ সময়ের আগেই কুরবানির পশুর বাজারমূল্য পরিশোধ করবেন।

এখন এখানে যে মাসয়ালা আসে—ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর অভিমত অনুযায়ী- হজের সময় হাজিদের তিনটি কাজে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব— ১. পাথর নিক্ষেপ, ২. কুরবানি, ৩. মাথা মুণ্ডন। অর্থাৎ মাথা মুণ্ডনের আগেই কুরবানি করা ওয়াজিব এবং এর বিপরীত করলে ধারাবাহিকতা লঙ্গনের দায়ে ‘দম’ ওয়াজিব হবে।

আগে তো হাজিদের জন্য বিষয়টা সহজ ছিল। নিজেদের কুরবানির আয়োজন তারা নিজেরাই করতেন অথবা করতেন নিজের নিয়োজিত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে। কুরবানি সম্পন্ন হয়ে গেলে হাজিদের অবগত করা হতো। মাথা মুণ্ডন করতেন।

কিন্তু এখন এই নতুন নিয়মের কারণে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হাজিদের অসম্ভব। কেননা, তাদের মনে একটা সন্দেহ থেকেই যাবে—কুরবানি কি মাথা মুণ্ডনের আগে হলো নাকি পরে?! অধিকন্তু রাষ্ট্রের জন্যও তো এটা সম্ভব নয় যে, তারা এই লাখ লাখ হাজির কুরবানি একই সময়ে কার্যকর করবেন এবং হাজিদের জানাবেন। যাতে করে তারা মাথা মুণ্ডনের কাজ সারতে পারেন!

এই প্রেক্ষাপট সামনে রেখে পাকিস্তানের প্রখ্যাত আলেম মুফতি তাকী উসমানী কিছুদিন আগে একটি ফতোয়া প্রকাশ করেছেন। ফতোয়ায় তিনি বলেছেন—অতি প্রয়োজন এবং অক্ষমতার দরুণ—সাহেবাইন (ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ.) ও আয়েম্মায়ে সালাসা (ইমাম শাফেয়ি, আহমদ ও মালেক রহ.) এর মাজহাবের ওপর আমল করা জায়েজ।

তিনি লিখিত ফতোয়ায় উল্লেখ করেন-

মুফতি তাকী উসমানী ও পাকিস্তানের বরেণ্য আলেমগণের স্বাক্ষরকৃত ফতোয়ার মূলকপি।

প্রেক্ষাপট যদি সেটাই হয়, যা জিজ্ঞাসাপত্রে আলোচিত হয়েছে—হাজিগণ তাহলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবেন। উদাহরণত, সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে যদি জবাইয়ের কাজ সম্পন্ন করার জন্য কোনো সময়কে নির্ধারণ করা হয়, তাহলে তামাত্তু এবং কেরান হজের হাজিগণ সে সময়ের আগে মাথা মুণ্ডন করবেন না। বরং অপেক্ষা করবেন। আত্মস্থিরতার জন্য নির্ধারিত সে সময়ের পর আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করবেন। অতঃপর ধারণা প্রবল হলে মাথা মুণ্ডন করবেন।

কিন্তু এটা যদি সম্ভব না হয় এবং শেষ চেষ্টা করেও যদি কুরবানি ও মাথা মুণ্ডনের মধ্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা অসম্ভব হয়, তাহলে এই অক্ষমতা ও বাধ্যবাধকতার কারণে, আমলের ক্ষয়-ক্ষতি থেকে বাঁচতে হাজিগণ সাহেবাইনের অভিমতের ওপর আমল করতে পারেন। এ অবশ্য আয়েম্মায়ে সালাসারও অভিমত। মারফু সূত্রের হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এবং সুসম্মত। এ-মাজহাবের সুবিধা হলো—কুরবানি আর মাথা মুণ্ডনের ধারাবহিকতা ক্ষুণ্ন হলেও ‘দম’ ওয়াজিব হয় না। ( মাখুজুহুত তাবভিব—৩০/১৫৬৪, ফাতহুল মুলহিমে—০৩/৩৪১)

ইমাম শাফেয়ি, সাহেবাইন, জমহুর সালফে-সালেহিন, উলামায়ে কেরাম ও হাদিস বিশারদগণের অভিমত অনুযায়ী উপরক্ত বিষয়াবলিতে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব নয়। এবং এতে দমও ওয়াজিব হবে না। তাদের দলিল—হাদিসে বর্ণিত অংশ— لاَ حَرَجَ অর্থাৎ এগুলোর মধ্যে ধারাবাহিকতা না-রাখলেও আপনার আমলে কোনো ক্ষতি হবে না। জরিমানা (দম) ও গোনাহ না-হওয়াটাও পষ্ট হয় হাদিসের এ অংশ থেকে। আল্লাহ তায়ালা সব বিষয়ে সম্যক অবগত।

অনুবাদ: যাকারিয়া মাহমুদ, সাব-এডিটর, আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ