সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলা: নিহত ১, আহত ১১ স্ত্রীর মৃত্যুর সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নামাজরত অবস্থায় প্রাণ হারালেন স্বামী সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির ১৩ জনই ওমরাহযাত্রী ১২ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি জরুরি অবস্থা জারির কড়া সমালোচনা মাওলানা ফজলুর রহমানের মাহবুবা হাকিম এমপির বরাদ্দ ক্রীড়া সামগ্রী কিশোরদের মধ্যে বিতরণ নির্বাচন কমিশনার আইন নিয়ে আমাদের আশঙ্কা সত্যি হচ্ছে: ওয়াইসি ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে মাদরাসাগুলোকে বোর্ডের নির্দেশ রিয়াদে হামলায় নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের শোক-প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় হিরার সাফল্যে বিএনপির অভিনন্দন

হজ্জে মাবরুরের বদলা কেবল জান্নাত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

|| মুহাম্মদ উসামা হাবীব ||

হজ্জে মাবরুর—হজের অধিকাংশ মর্যাদা ও চূড়ান্ত প্রতিদান প্রাপ্তির অন্যতম শর্ত। হাদিসের বর্ণনার দিকে তাকালে আমরা এমনটিই জানতে পারি। যেমন, বুখারি-মুসলিমের এক প্রসিদ্ধ বর্ণনায় আছে—হজ্জে মাবরুর, এর চূড়ান্ত বিনিময় তো কেবল জান্নাত। (সহিহ বুখারি: ১৭৭৩, সহিহ মুসলিম: ১৩৪৯)

আল্লাহ তায়ালার নিকট সর্বোত্তম আমল কী—এর তালিকা দিয়েছেন নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাতেও ঈমান ও জিহাদের পরই হজ্জে মাবরুরের কথাই উল্লিখিত। যেমন, বুখারির এক হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি ঈমান আনা। জিজ্ঞেস করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কোনটি? তখন তিনি বলেন, হজ্জে মাবরুর। (সহিহ বুখারি: ১৫১৯)

কিন্তু হজ্জে মাবরুরের মানে কী? আমাদের কষ্টের হজ, মাবরুর হবে কীভাবে? সে জন্য আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে লক্ষ করতে হবে—রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জে মাবরুরের কী ব্যাখ্যা দিয়েছেন! কী বলেছেন তিনি এই বিষয়ে! মুসনাদে আহমদের এক হাদিসে এসেছে, হজরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, হজ্জে মাবরুর কী? তিনি বললেন, মানুষকে খাবার খাওয়ানো এবং ভালো কথা বলা। মুসনাদে আহমদের আরেক হাদিসে এসেছে, খাবার খাওয়ানো এবং (মানুষকে) সালাম দেওয়া।

নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক হজ্জে মাবরুরের এমন পরিচয় দেওয়ার অন্যতম একটি কারণ এও হতে পারে—মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে, আজন্ম অভ্যস্ত আরামদায়ক পরিবেশ থেকে হিজাজ ভূমিতে মেহমান হয়। স্বাভাবিকভাবেই 'গাইরে জি যারঈন' অর্থাৎ, তৃণলতাহীন উষড়াঞ্চলে তার কষ্ট হবে। এবং অগণিত মানুষের আনুষ্ঠানিক সমাগমে যারা খিদমতে নিয়োজিত থাকে—তারাও এক পর্যায়ে হাঁপিয়ে ওঠে। দায়িত্বের বোঝা নামিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে চায়। এমন কষ্ট আর অপ্রীতিকর পরিবেশেও যারা সদয় হবে, সহমর্মী হবে, সদ্যোগে দায়িত্ব নিবে, তারাই পাবে হজ্জে মাবরুরের সম্মানজনক পুরস্কার।

বর্তমান সময়ে এই সুযোগ গ্রহণের সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন হজ এজেন্সির কর্তা ও কর্মীরা। কারণ, প্রথমত, তাদের দায়িত্বটাই এমন। এর উপর ভিত্তি করেই তাদের সফলতা নির্ণীত হয়। দ্বিতীয়ত, বর্তমানে হজের সফরে এমন অনেক ফর্মালিটি আছে, যেগুলো তাদের মাধ্যমেই সম্পাদন সম্ভব। অন্যরা চাইলেও পূরণ করতে পারবে না। অতএব, হজ এজেন্সির কর্তা ও কর্মী বা হাজিদের খেদমতে যারা নিয়োজিত—এটা তাদের জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বিরাট সুযোগ। সুতরাং এই সুযোগ কৃতজ্ঞচিত্তে গ্রহণ উচিত। নিয়ত বিশুদ্ধ থাকলে তারাই হবে দুনিয়া-আখেরাতের সবচে’ বেশি লাভবান। আল্লাহ তায়ালা আমাদের শুদ্ধ নিয়তে কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: প্রবন্ধকার, শিক্ষক, ইমাম ও খতিব

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ