আওয়ার ইসলাম ডেস্ক
উত্তম চরিত্র ও সুন্দর কথাবার্তা মুমিনের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সদয় ও মার্জিত কথা মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা সৃষ্টি করে, পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করে এবং বিবাদ-বিসংবাদ দূর করে। অন্যদিকে, কঠোর ও অশালীন ভাষা মানুষের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ছড়াতে পারে। তাই কথা বলার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম শব্দ বেছে নেওয়া এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করে চলার আহ্বান জানিয়েছেন পবিত্র মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ ড. খালিদ আল-মুহান্না।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মদিনার মসজিদে নববিতে জুমার খুতবায় তিনি এসব কথা বলেন। খুতবায় তিনি তাকওয়ার গুরুত্ব, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুপম চরিত্র, উত্তম কথার মর্যাদা এবং মানুষের সঙ্গে সদয় আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
শায়খ খালিদ আল-মুহান্না বলেন, তাকওয়া মানুষের অন্তরকে পবিত্র রাখে, প্রকাশ্য আচরণকে সুন্দর করে এবং জীবনের মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়। প্রকৃত সুখের পথ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের উত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা লাইলের ৫-৭ নম্বর আয়াতের মর্ম তুলে ধরেন। এসব আয়াতে দানশীলতা, আল্লাহভীতি এবং উত্তম প্রতিদানের প্রতি বিশ্বাসের অধিকারীদের জন্য সহজ পথ সুগম করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, মুসলিম উম্মাহর প্রতি আল্লাহর অন্যতম বড় অনুগ্রহ হলো, তিনি তাদের জন্য এমন জীবনাদর্শ দিয়েছেন, যা অনুসরণ করলে মানুষের চরিত্র, কথা ও কাজ সুন্দর হয়ে ওঠে। এর সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর জীবন ছিল উত্তম আচরণ, মার্জিত কথাবার্তা, কোমলতা ও প্রজ্ঞার অনন্য নমুনা। তাঁর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের চরিত্র পরিশুদ্ধ করতে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারেন।
মসজিদে নববির ইমাম বলেন, মহানবী (সা.)-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর মধুর কথাবার্তা, সুন্দর আচরণ ও বিচক্ষণতা। তিনি অকারণে কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না; বরং মানুষকে সুসংবাদ দিতেন, কোমলভাবে উপদেশ দিতেন এবং প্রয়োজনের সময়ও মার্জিত ভাষায় সংশোধনের চেষ্টা করতেন। তিনি উচ্চকণ্ঠ, অশ্লীলভাষী কিংবা অভদ্র ছিলেন না। তাঁর কথা ও কাজে প্রকাশ পেত সৌন্দর্য ও মহত্ত্ব।
তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.) সুন্দর ও ইতিবাচক শব্দ পছন্দ করতেন। ভালো নাম পছন্দ করতেন এবং মন্দ অর্থবোধক নাম অপছন্দ হলে তা পরিবর্তন করে দিতেন। পবিত্র কোরআনের সুরা হজের ২৪ নম্বর আয়াতেও জান্নাতবাসীদের পবিত্র বাণীর দিকে পরিচালিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
শায়খ আল-মুহান্না বলেন, উত্তম কথার সর্বোচ্চ পর্যায় হলো তাওহিদ ও ইখলাসের বাণী—‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। এ ছাড়া আল্লাহর জিকির, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, তাঁর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা এবং কল্যাণকর জ্ঞানচর্চাও উত্তম কথার অন্তর্ভুক্ত। মানুষের উপকার করে, কল্যাণের শিক্ষা দেয় কিংবা পারস্পরিক ভালোবাসা ও সংশোধনের পরিবেশ সৃষ্টি করে—এমন কথাও উত্তম কথার মর্যাদা পেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মুমিনের কথাবার্তায় সত্যবাদিতা, শালীনতা, আন্তরিকতা ও কল্যাণের প্রতিফলন থাকা উচিত। অশ্লীলতা, কুরুচিপূর্ণ ভাষা, পরনিন্দা ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য থেকে দূরে থাকা মুমিনের পরিচয়। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস উল্লেখ করে তিনি উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরেন। জামে তিরমিজির ২০০২ নম্বর হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী কোনো বস্তু থাকবে না। আল্লাহ অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহারকারীকে অপছন্দ করেন।
রাগের সময় জিহ্বাকে সংযত রাখার আহ্বান জানিয়ে শায়খ খালিদ আল-মুহান্না বলেন, উত্তেজনার মুহূর্তে মানুষ অনেক সময় এমন কথা বলে ফেলে, যার জন্য পরে অনুতপ্ত হতে হয়। তাই রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, সালাম দেওয়া ও তার উত্তর দেওয়া, উপকারী জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া, মানুষকে ভালো কাজে উৎসাহিত করা এবং বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দেওয়াও উত্তম কথার উদাহরণ। যে কথা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যে নিয়ে যায় এবং মানুষের উপকার করে, তা কল্যাণের অন্তর্ভুক্ত।
এসএইচ/