বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
প্রথম দিনেই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার ১৮ হাজার আবেদন এবার ময়মনসিংহ বিভাগের ইমাম-খতিবদের জন্য আস-সুন্নাহর বিশেষ প্রশিক্ষণ জাগতিক জ্ঞানের পাশাপাশি কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষাও জরুরি: শায়খে চরমোনাই দুই দেশের স্বার্থ বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের প্রত্যাশা ত্রিবেদীর আকাবার অঙ্গীকার—নতুন আশার আলো মমেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু ‘প্রশান্তিময় কুরআন-২৬’ হিফজ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত অন্তত ১৮ ছয় কওমি বোর্ডের সনদে সরকারি-বেসরকারি মাদরাসায় চাকরির সুযোগ কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য বাউবিতে এসএসসি-এইচএসসি প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ

আকাবার অঙ্গীকার—নতুন আশার আলো

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: এআই

দাদা গল্পের আসরে উপস্থিত হয়েই মুচকি একটি হাসি দিলেন। নাতিরা বলল, দাদু যে আজ বেশ খুশি। কোন খুশির সংবাদ আছে নাকি? দাদা বললেন, আছে।  তোমরা কি কখনো ভেবেছ, অনেক কষ্টের পর হঠাৎ যদি এমন একটা সুখবর আসে, যা সব দুঃখ ভুলিয়ে দেয়— তাহলে কেমন লাগবে?

নাতি-নাতনিরা আগ্রহ নিয়ে মাথা নেড়ে বলল, অবশ্যই ভাল লাগবে।

দাদা বলতে শুরু করলেন— তখন মক্কার দিনগুলো ছিল খুব কঠিন। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আর তাঁর সাহাবিরা প্রতিদিন নতুন নতুন কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছিলেন।

মনে হচ্ছিল, আর বুঝি কোনো আশাই নেই। যখন চারদিকে শুধু অন্ধকার দেখা যায়, তখনই আল্লাহ তাআলা কোথাও না কোথাও আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে দেন।

এক বছর হজের মৌসুমে আরবের নানা গোত্রের মানুষ মক্কায় এসেছিল। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানুষের কাছে ইসলামের কথা পৌঁছে দিতেন। এই সুযোগটাও তিনি হাত ছাড়া করলেন না। সেই সময়ে তাঁর সঙ্গে দেখা হলো ইয়াসরিব শহর থেকে আসা খাজরাজ গোত্রের ছয়জন যুবকের সাথে।

দাদা একটু থেমে বললেন, জানো, এই ছোট্ট সাক্ষাৎটাই পরে ইতিহাস বদলে দিয়েছিল! রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের সামনে কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করলেন। আল্লাহর বাণী শুনে ছয়জনের হৃদয়ই কেঁপে উঠল। তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলল, "এ তো সেই নবী, যার আগমনের কথা আমরা এতদিন ধরে শুনে আসছি!" আর দেরি করল না তারা। সেখানেই ইসলাম গ্রহণ করল।

বিদায় নেওয়ার আগে তারা বলল, "আমরা ইয়াসরিবে ফিরে গিয়ে আমাদের লোকদেরও এই সত্যের কথা জানাব।"

দাদা হেসে বললেন, দেখলে তো? সত্যিকারের ভালো মানুষ শুধু নিজে ভালো থাকে না, অন্যদেরও ভালো পথে ডাকে।

পরের বছর সেই ছয়জন আবার এল। তবে এবার তারা একা নয়— সঙ্গে নিয়ে এল আরও ছয়জনকে। মোট বারোজন। তারা গভীর রাতে মক্কার কাছে আকাবা নামের একটি নির্জন স্থানে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে মিলিত হলেন। সেই রাত ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা প্রতিজ্ঞা করলেন— 'শুধু আল্লাহর ইবাদত করবেন, কখনো চুরি করবেন না, ব্যভিচার করবেন না, সন্তান হত্যা করবেন না, কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেবেন না এবং সব ভালো কাজে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য করবেন।' ইতিহাস এই ঘটনাকে প্রথম আকাবার অঙ্গীকার নামে মনে রেখেছে।

এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভাবলেন, ইয়াসরিবের মানুষকে ইসলামের শিক্ষা দেওয়ার জন্য একজন জ্ঞানী ও উত্তম চরিত্রের মানুষ দরকার। তিনি সেই দায়িত্ব দিলেন তরুণ সাহাবি মুসআব ইবন উমাইর (রা.)-কে। তিনি সুন্দর ব্যবহার দিয়ে, ধৈর্য নিয়ে মানুষের কাছে ইসলামের কথা পৌঁছে দিতে লাগলেন। কারও সঙ্গে তিনি রাগ করে কথা বলতেন না। ভালোবাসা আর প্রজ্ঞা দিয়ে মানুষকে সত্যের পথে ডাকতেন।

অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আশ্চর্য এক পরিবর্তন দেখা গেল। ইয়াসরিবের একের পর এক পরিবার ইসলাম গ্রহণ করতে লাগল। শহরের পরিবেশ বদলে যেতে শুরু করল। মনে হচ্ছিল, আল্লাহ যেন একটি নতুন অধ্যায়ের জন্য পুরো শহরকে প্রস্তুত করছেন।

আরেক বছর কেটে গেল। হজের মৌসুমে এবার ইয়াসরিব থেকে এলেন তেহাত্তরজন পুরুষ এবং দুজন নারী। গভীর রাতে তারা আবার আকাবায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে মিলিত হলেন। সেই রাতের দৃশ্য ছিল খুবই আবেগময়।

তারা বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনাকে আমাদের নিজেদের পরিবার-পরিজনের মতো রক্ষা করব। যদি প্রয়োজন হয়, আপনার জন্য আমাদের জীবনও উৎসর্গ করব।"

দাদা আবেগভরা কণ্ঠে বললেন, এই কথাগুলো শুধু মুখের কথা ছিল না। পরে তারা সত্যিই সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছিলেন। এই ঘটনাই ইতিহাসে দ্বিতীয় আকাবার অঙ্গীকার নামে পরিচিত।

আকাবার অঙ্গীকারের পর থেকেই ইসলামের ইতিহাসে এক নতুন সূচনা হলো। দীর্ঘ তেরো বছরের নির্যাতনের পর আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করলেন। ইয়াসরিব খুব শিগগিরই পৃথিবীর সবচেয়ে বরকতময় শহরগুলোর একটি হয়ে উঠবে। মানুষ তখন তাকে নতুন নামে ডাকবে— মদিনাতুন নববি।

দাদা গল্প শেষ করে নাতি-নাতনিদের দিকে তাকিয়ে বললেন, দাদুভাইয়েরা, আকাবার সেই রাত আমাদের একটা বড় শিক্ষা দেয়। মানুষ যদি সত্যের পথে ধৈর্য ধরে থাকে আর আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখে, তাহলে একদিন না একদিন আল্লাহ এমন সাহায্য পাঠান, যা কল্পনারও বাইরে। তাই কোনো কষ্টেই হতাশ হওয়া যাবে না। কারণ, সবচেয়ে অন্ধকার রাতের পরই তো সবচেয়ে সুন্দর ভোর আসে।

দাদা মৃদু হেসে বললেন, আচ্ছা, আজ এতটুকুই। পরের রাতে তোমাদের আরেকটা গল্প শোনাব। সেখানে থাকবে, কীভাবে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক নতুন যুগের সূচনা করতে মক্কা ছেড়ে মদিনার পথে যাত্রা করেছিলেন।

গল্পে গল্পে প্রিয় নবীজি (পর্ব: ১৬)

লেখক: আকিদুল ইসলাম সাদী

চলবে....

 

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ