রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
কক্সবাজারে ১৯৩৮ আইফোনসহ ৬ চীনা নাগরিক আটক পুকুরে ডুবে একই পরিবারের প্রাণ গেল ৩ জনের  মুফতী জুবাইর আহমাদের ‘ইসলামের বিশুদ্ধ আকীদা ও বিদআতের অসারতা’ বাজারে ‘কাফের-মুরতাদ ফতোয়া অত্যন্ত স্পর্শকাতর, সতর্কতা কাম্য’ নোয়াখালীর বিশিষ্ট আলেম মাওলানা মুশাররফ হোসাইনের ইন্তেকাল বদরের মহাযুদ্ধ—ঈমানের প্রথম বিজয় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে রাজনৈতিক সমাধানের বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ ইশতেহার বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার

বদরের মহাযুদ্ধ—ঈমানের প্রথম বিজয়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

বিদ্যুৎ খুবই কষ্ট দিচ্ছে। বারবার লোডশেডিং। গরমে অতিষ্ঠ সবাই। তবে  বাইরে মৃদু বাতাস বইছে। সেই বাতাসে  উঠোনে পাটি বিছিয়ে গোল হয়ে বসে আছে নাতি-নাতনিরা। দাদা আসবেন, গল্প বলবেন- এই তাদের আশা।

দাদা হাতপাখা দিয়ে বাতাস নিতে নিতে গল্পের আসরে উপস্থিত হলেন। তিনি চেয়ারে বসে একটু হেসে বললেন, আজ আমি তোমাদের এমন এক যুদ্ধের গল্প শোনাব, যেখানে জয় এসেছিল তলোয়ারের জোরে নয়, এসেছিল আল্লাহর ওপর অটল ভরসার কারণে। সেই যুদ্ধের নাম— বদরের মহাযুদ্ধ।

নাতিরা আগ্রহ নিয়ে দাদার আরও কাছে সরে এলো।

দাদা বলতে শুরু করলেন, মদিনায় হিজরতের পর মুসলমানরা শান্তিতে বসবাস শুরু করলেও মক্কার কুরাইশ নেতারা তাদের শান্তিতে থাকতে দিতে চায়নি। তারা বারবার ষড়যন্ত্র করছিল, যেন ইসলামকে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা যায়। শেষ পর্যন্ত এমন সময় এল, যখন যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ রইল না।

হিজরতের দ্বিতীয় বছর। রমজান মাসের ১৭ তারিখ। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাত্র ৩১৩ জন সাহাবিকে নিয়ে বদরের দিকে রওনা হলেন।

একজন নাতি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, দাদা, মাত্র ৩১৩ জন?

দাদা মাথা নেড়ে বললেন, হ্যাঁ। আর জানো, তাঁদের কাছে ছিল মাত্র দুটি ঘোড়া আর সত্তরটি উট। সাহাবিরা পালা করে একই উটে চড়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছিলেন।

তিনি একটু থেমে আবার বললেন, অন্যদিকে কুরাইশদের সৈন্য ছিল প্রায় এক হাজার। তাদের ছিল শতাধিক ঘোড়া, পর্যাপ্ত উট আর প্রচুর অস্ত্র। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতো, মুসলমানদের জয়ের কোনো সম্ভাবনাই নেই।

সবাই নীরব হয়ে দাদার কথা শুনছে।

দাদা ধীর কণ্ঠে বললেন, যুদ্ধের আগের রাতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সারারাত আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, 'হে আল্লাহ! আজ যদি এই ছোট দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে পৃথিবীতে তোমার ইবাদত করার মতো কেউ থাকবে না।'

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই আকুল দোয়া শুনে সাহাবিদের হৃদয় ভরে গেল সাহস আর ভরসায়। তারা বুঝে গেলেন, আল্লাহর সাহায্যই তাঁদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

পরদিন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলো। দাদা বললেন, সংখ্যায় কম হলেও মুসলমানদের হৃদয় ছিল ঈমানে পরিপূর্ণ। তারা আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সাহসের সঙ্গে যুদ্ধ করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁদের সাহায্যের জন্য ফেরেশতা পাঠালেন এবং তাঁদের অন্তরকে দৃঢ় করে দিলেন।

তারপর দাদা কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে অনুবাদ করলেন— 'আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের বদরে সাহায্য করেছিলেন, অথচ তখন তোমরা ছিলে দুর্বল।'

— সূরা আলে ইমরান: আয়াত ১২৩

নাতি-নাতনিরা মুগ্ধ হয়ে শুনছে।

দাদা বললেন, অবশেষে আল্লাহর সাহায্যে মুসলমানরা ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করলেন। কুরাইশদের অনেক বড় বড় নেতা নিহত হলো, অনেকেই বন্দি হলো। আর মুসলমানদের মধ্যে মাত্র ১৪ জন সাহাবি শাহাদাতের মহান মর্যাদা লাভ করলেন।

তিনি একটু থেমে কোমল কণ্ঠে বললেন, দাদু ভাইয়েরা, বদরের বিজয় শুধু একটি যুদ্ধের জয় ছিল না। এটি ছিল পৃথিবীকে দেখিয়ে দেওয়া যে, আল্লাহ যাদের সাহায্য করেন, তাদের পরাজিত করার শক্তি কারও নেই।

দাদা শেষ কথাগুলো খুব ধীরে বললেন, মনে রেখো, জীবনের প্রতিটি লড়াইয়ে বড় হওয়া মানেই জয়ী হওয়া নয়। অনেক সময় ছোট দলও জিতে যায়, যদি তাদের হৃদয়ে থাকে ঈমান, ধৈর্য, ঐক্য, সৎ উদ্দেশ্য আর আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা। বদরের শিক্ষা আজও আমাদের সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।

আজকের গল্প এখানেই শেষ হলো। আগামীকাল সকলে আবার চলে আসবে। ইনশাআল্লাহ গল্প হবে। নবী জীবনের গল্প।

গল্পে গল্পে প্রিয় নবীজি (পর্ব: ১৯)

লেখক: আকিদুল ইসলাম সাদী

চলবে....

 

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ