রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


নু‘মানের শৈশব: পরিবার ও বেড়ে ওঠা 

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

|| আকিদুল ইসলাম সাদী ||

নু‘মান বড় হচ্ছে। কুফার ব্যস্ত রাস্তাগুলো তাঁর কাছে প্রতিদিনের পরিচিত দৃশ্য। দোকানপাট, বাজার, মসজিদ, মানুষের যাতায়াত—সবকিছুই  তাঁর শৈশবের অংশ। তাঁর পারিবারিক জীবনের সঙ্গে ব্যবসার সম্পর্ক ছিল। পিতা সাবিত ব্যবসা করতেন।
ছোট্ট নু‘মান বাবার সঙ্গে বাজারে যেত। চারপাশে কত মানুষ! কেউ কাপড় বিক্রি করছে, কেউ সুতা, কেউ খাদ্যসামগ্রী। ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম চলছে। কারও হাতে মুদ্রা, কারও হাতে পণ্য।

একজন শিশুর চোখে বাজার শুধুই কেনাবেচার জায়গা। তবে নু‘মানের জন্য এই বাজারই ধীরে ধীরে হয়ে উঠছিল জীবনের একটি শিক্ষালয়। তার চোখে ভেসে ওঠেছিল—ব্যবসা শুধু লাভের নাম নয়। একজন ব্যবসায়ী মিথ্যা বললে কী হতে পারে, ওজনে কম দিলে কীভাবে অন্যের অধিকার নষ্ট হয়, আর সত্যবাদিতা একজন মানুষকে কীভাবে সম্মানিত করে—এসবও সে চারপাশ থেকে শিখছিল।

পারিবারিক পরিবেশ তাঁর চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পিতা তাঁকে শুধু ব্যবসার কাজ শেখাননি; ধর্মীয় মূল্যবোধের মধ্যেও বড় করে তুলেছিলেন। নু‘মানের শৈশব ছিল সাধারণ, কিন্তু অর্থবহ। ছোটবেলায়ই সে কুরআন শিক্ষা করে এবং ধর্মীয় পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হয়।

নু'মান বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটায়। বাজারে যায়। পরিবারের কাজে সহযোগিতা করে। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তখনও খুব স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা করেনি সে। কখনো কখনো মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে খুব ছোট একটি মুহূর্ত থেকে। নু‘মানের জীবনেও এমন একটি মুহূর্ত এসেছিল।

একদিন একজন বিশিষ্ট আলেমের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। তিনি হলেন, শা‘বী রহ.। তৎকালীন তিনি ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ আলেম। নু‘মান তখন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এক তরুণ। তাঁকে দেখে শা‘বী রহ. কিছু সম্ভাবনা লক্ষ্য করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়। তিনি তাঁকে জ্ঞান অর্জনের দিকে মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করেন।

একজন আলেমের একটি কথাও কখনো কখনো একজন তরুণের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে। নু‘মানের ক্ষেত্রে সেটিই ঘটল। শা'বী রহ.-এর সঙ্গে সাক্ষাতের পর থেকে সে ভাবতে শুরু করল— “শুধু ব্যবসা করেই কি জীবন শেষ করে দেব? জ্ঞান অর্জনের জন্য কি আমার কিছু করা উচিত নয়?”

প্রশ্নটি ছোট। কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই শুরু হয় তাঁর জীবনের নতুন অধ্যায়। যে নু‘মান বাজারের পথে হাঁটত, এবার সে হাঁটতে শুরু করে জ্ঞানের পথে। আর সেই পথ তাঁকে কোথায় নিয়ে যাবে—তা তখন কেউ জানত না।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ