রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, দেশে হত্যা, ধর্ষণ, মাদক, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে।
বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী এবং পরিচালনা করেন ড. আহমদ আবদুল কাদের।
নেতৃবৃন্দ বলেন, গত নয় দিনে দেশে পাঁচটি শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যা সমাজে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা রামিসাসহ সাম্প্রতিক সব হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতার কারণে অপরাধ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বৈঠকে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে হাট-বাজার ও সড়কে শৃঙ্খলা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিত এবং শরিয়াহভিত্তিক আইন বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতারা অভিযোগ করেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, মাদক ও পণ্য চোরাচালানসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
নেতারা আরও বলেন, কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে দেশীয় খামারি ও উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় ভারতীয় গরু আমদানি ও চোরাচালান কঠোরভাবে দমন করতে হবে। পাশাপাশি সীমান্তে বিজিবি-র টহল ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়।
বৈঠকে জুলাই গণহত্যাসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে ট্রাইব্যুনাল ও আদালতে জনবল বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানানো হয়।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, অধ্যাপক আবদুল জলিল, এডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, আলহাজ্ব আবু সালেহীন, জহিরুল ইসলাম, প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, এডভোকেট শায়খুল ইসলাম, তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, মুফতি আবদুল হক আমিনী
আইও/