নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এ পরিষদের সভাপতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান এবং সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম রফিকুল ইসলাম।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার সেন্ট্রাল কনভেনশন হলে নবগঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের শপথ গ্রহণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা নেছার উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, নবগঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের দায়িত্বশীলদের ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠা, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং শ্রমজীবী মানুষের সার্বিক কল্যাণে কাজ করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হবে।
তিনি বলেন, শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। অথচ ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। শ্রমিকদের শোষণ ও বৈষম্য থেকে মুক্তি দিতে ইসলামী শ্রমনীতির বাস্তবায়ন জরুরি।
বিশেষ অতিথি মাওলানা নেছার উদ্দিন বলেন, নবগঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের দায়িত্বশীলদের সংগঠনের কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে সম্প্রসারণ করতে হবে। বিভিন্ন পেশার শ্রমিকদের সংগঠিত করে তাঁদের ন্যায্য দাবি আদায়, অধিকার সংরক্ষণ এবং ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে। এ জন্য সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের দায়িত্বশীলরা
নবগঠিত ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে সভাপতি ও সেক্রেটারি জেনারেল ছাড়াও রয়েছেন—
সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব: সভাপতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি কে এম বিল্লাল, সহসভাপতি মুহাম্মদ হাসমত আলী, মুহাম্মাদ হারুনুর রশিদ ও মুহাম্মাদ ওয়ায়েজ হোসেন ভূঁইয়া।
সেক্রেটারিয়েট: সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম রফিকুল ইসলাম, জয়েন্ট সেক্রেটারি মুহাম্মাদ শাহাদাত হোসেন, অ্যাডভোকেট মুহাম্মাদ হাসিবুল ইসলাম ও মুহাম্মাদ হাবিবুল্লাহ হাবিব। অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মাদ নাজিম উদ্দিন, মুহাম্মাদ কামাল উদ্দিন আহম্মেদ ও শাহ মুহাম্মাদ জামাল উদ্দিন।
বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক: ঢাকা বিভাগে গোলাম কিবরিয়া, চট্টগ্রামে মুহাম্মাদ শরিফুল আলম চৌধুরী, খুলনায় মুহাম্মাদ আল-আমিন গাজী, রাজশাহীতে মুহাম্মাদ মুহিবুল্লাহ, বরিশালে মুহাম্মাদ নজিবুল্লাহ সরকার, সিলেটে মুহাম্মাদ সিদ্দিকুর রহমান, রংপুরে মুহাম্মাদ আনিসুর রহমান, ময়মনসিংহে মুহাম্মাদ আশেকে মোস্তফা, কুমিল্লায় মুহাম্মাদ শাহিদুল ইসলাম এবং ফরিদপুরে মুহাম্মাদ তরিকুল ইসলাম।
বিভিন্ন বিষয়ক সম্পাদক: প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মুহাম্মাদ আবু সুফিয়ান নোমান, দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল করিম, অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক সৈয়দ মুহাম্মাদ ওমর ফারুক, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মাদ নজরুল ইসলাম, শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক এইচ এম সাইফুল ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ নূরে আলম নিরব, নারী শ্রমিক অধিকারবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ হাসান ইমাম মুন্সি, তথ্যপ্রযুক্তি ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ সালিম এবং ট্রেড ইউনিয়নবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ শাহজাহান ভূঁইয়া।
শিল্প ও কলকারখানা শ্রমিকবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল লতিফ, বস্ত্র ও গার্মেন্টস শ্রমিকবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ শামিম খাঁন, নির্মাণ শ্রমিকবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ নজরুল ইসলাম, ট্রাক, কাভার ভ্যান ও ট্যাংকলরি শ্রমিকবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ শহীদুল ইসলাম, দোকান ও প্রতিষ্ঠান কর্মচারীবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ আইয়ুব আলী চৌধুরী, হকার্স শ্রমিকবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ ইমাম হোসেন ভূঁইয়া, রেলওয়ে শ্রমিকবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ মিজানুর রহমান, সড়ক পরিবহন শ্রমিকবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ মাসুদুল ইসলাম, হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ জুয়েল, ডেকোরেটর ও ফার্নিচার শ্রমিকবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ আনিসুর রহমান, নৌ-শ্রমিকবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ সানা উল্লাহ সরকার, সিএনজি ও হালকাযান চালকবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ এবং রিকশা, ভ্যান ও অটোচালকবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ শাহাদাত হোসেন প্রধানিয়া।
কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য: মুহাম্মাদ আতিকুর রহমান, মুহাম্মাদ আমিরুল হক ও মুহাম্মাদ সামছুল আলম (সাজু)।
নবগঠিত পরিষদ শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং ইসলামী শ্রমনীতির আলোকে ন্যায়ভিত্তিক শ্রমব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন মাওলানা নেছার উদ্দিন।
আরএইচ/