বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বেতন-ভাতার জন্য এখন অষ্টম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড অনুসরণ করা হয়৷ এই মজুরি বোর্ড সংবাদপত্র এবং বার্তা সংস্থার জন্য৷
টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের জন্য কোনো আলাদা মজুরি বোর্ড নেই৷ এমনকি সংবাদপত্র মজুরি বোর্ডের মধ্যেও তা অন্তর্ভুক্ত নয়৷ টেলিভিশন ও অনলাইনে বেতন নির্ধারণ হয় কর্তৃপক্ষের ইচ্ছায় এবং তা অনেক ক্ষেত্রেই সংবাদপত্র মজুরি বোর্ডের চেয়ে কম৷
কোন গ্রেডে কত বেতন?
২০১৩ সালে অষ্টম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড ঘোষণা করে সরকার৷ সেখানে সংবাদপত্রের বার্তা বিভাগে কর্মরত সম্পাদক থেকে শুরু করে শিক্ষানবিশ সাংবাদিকদের জন্য মোট ছয়টি গ্রেড করা হয়৷ সম্পাদক স্পেশাল গ্রেডে বেতন পান৷ গ্রেড-১ নির্বাহী সম্পাদক থেকে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যন্ত৷ গ্রেড-২ যুগ্ম বার্তা সম্পাদক থেকে সিনিয়র রিপোর্টার৷ গ্রেড-৩ সহ-সম্পাদক থেকে স্টাফ রিপোর্টার৷ গ্রেড-৪ শিক্ষানবিশ সহ-সম্পাদক থেকে শিক্ষানবিশ রিপোর্টার৷ গ্রেড-৫ শিক্ষানবিশ সম্পাদনা সহকারী৷
সাংবাদিকতায় প্রবেশের প্রথম ধাপ হলো শিক্ষানবিশ রিপোর্টার৷ আর শিক্ষানবিশ রিপোর্টারের গ্রেড হলো ৪৷ এই গ্রেডের মূল প্রারম্ভিক বেতন ১২,৬০০ টাকা৷ এর সঙ্গে ঢাকায় কর্মরত হলে বাড়িভাড়া মূল বেতনের শতকরা ৭০ ভাগ৷ চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা, সাধারণ যাতায়াত ভাতা ২,৫০০ টাকা, বিশেষ যাতায়াত ভাতা (শুধুমাত্র রিপোর্টারদের জন্য) ৩,০০০ টাকা৷ এভাবে মোট বেতন দাঁড়ায় ২৮,৪২০ টাকা৷
মজুরি বোর্ড অনুযায়ী সম্পাদকের মূল বেতন ৩৫,৮৭৫ টাকা, নির্বাহী সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদক ও বিশেষ প্রতিনিধির মূল বেতন ৩১,৮৫০ টাকা, সিনিয়র রিপোর্টারের মূল বেতন ২৪,১০৬ টাকা এবং স্টাফ রিপোর্টারের মূল বেতন ১৫,৯২৫ টাকা৷ তাতে দেখা যায় সম্পাদকেরও মোট বেতন ৮০ হাজার টাকার বেশি নয়৷ এর সঙ্গে আরো কিছু ভাতার কথা বলা হলেও তা বাস্তবে কার্যকর নয়৷
সংবাদপত্রের অন্যান্য বিভাগ যেমন প্রেস, সার্কুলেশন, বিজ্ঞাপন তাদের জন্যও মজুরি বোর্ডে আলাদা বেতন কাঠামো আছে৷ মজুরি বোর্ড অনুয়ায়ী সংবাদপত্রে কর্মরতদের প্রভিডেন্ড ফান্ড এবং গ্রাচুয়িটি পাওয়ার কথা৷
ওয়েজ বোর্ড মানে কারা
মজুরি বোর্ডের এই ঘোষিত বেতন সংবাদপত্র এবং সংবাদ সংস্থায় দেয়া বাধ্যতামূলক কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে৷ এটা না দেয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আছে কিনা তাও নিশ্চিত নয়৷ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব মো. ওমর ফারুক ডয়চে ভেলেকে বলে, ‘‘ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতন দেয়া বাধ্যতামূলক৷ তবে অনেক প্রতিষ্ঠানই এই ওয়েজ বোর্ড মানে না৷ হাতে গোনা কিছু প্রতিষ্ঠান ওয়েজ বোà