আওয়ার ইসলাম: ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর। জঙ্গি হামলায় কেঁপে উঠেছিল ভারতের মুম্বাই। তিনদিন পর জঙ্গিমুক্ত হয়েছিল তাজ হোটেল। মারা গেছিলেন প্রায় ১৬৬ জন। সেই রক্তক্ষয়ী দিনগুলো একেবারে সামনে থেকে দেখেছিলেন অভিনব চারি। দুবাইতে বড় হওয়া অভিনব মেডিসিন বিষয়ে একটি কোর্স করতে তখন মুম্বাই ছিলেন।
তারপর পার হয়েছে ১১ বছর। মুম্বাই হামলার ধাক্কা সামলে উঠেছিলেন। কিন্তু গত ইস্টার সান-ডে’তে কলম্বোয় গিয়ে ফের একই ঘটনার সাক্ষী থাকলেন অভিনব। এবার আরও কাছ থেকে মৃত্যুকে প্রত্যক্ষ করলেন।
২১ এপ্রিল গির্জায় ইস্টারের প্রার্থনা চলাকালীন ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে কলম্বো। উত্তর অংশের কোচ্চিকাড়, কাটুওয়াপিটিয়া ও বাট্টিকালোর চার্চে বিস্ফোরণ হয়। শাংরি লা, সিনামন গ্র্যান্ড ও কিংসবারি হোটেলও বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। তার ঘণ্টাখানেক পরই আরও দু’টি বিস্ফোরণ হয়। ঘটনায় ২৫৩ জনের মৃত্যু হয়।
এর কয়েকদিন আগেই ব্যবসায়িক কাজে শ্রীলঙ্কায় এসেছিলেন অভিনব ও তার স্ত্রী নভরূপ। দুবাইয়ের বাসিন্দা ওই দম্পতি সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলে ছিলেন। আর পাঁচটা ইস্টারের মতো সেই অভিশপ্ত সকালেও প্রার্থনার জন্য স্ত্রীর সঙ্গে চার্চে গেছিলেন অভিনব।
তার কথায়, ‘প্রার্থনা চলাকালীন ফাদার একটি ঘোষণা দেন। চার্চের ভেতর থেকে সবাইকে বাইরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। সেইমতো দুজনে চার্চ থেকে বেরিয়ে আসনে। সেই সময় রাস্তায় জটলা চোখে পড়ায় অভিনব ও তার স্ত্রী হোটেলে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।’
অভিনব বলেন, ‘হোটেলে ফিরে দেখি, সবাই লনে বেরিয়ে পড়েছেন। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছিল, নিরাপত্তা প্রটোকল হিসেবে এরকম করা হচ্ছে। কিন্তু, তারপরই ভুলটা ভাঙে। জানতে পারি, আমাদের হোটেলের ব্রেকফাস্ট বুফেতে বিস্ফোরণ হয়েছে। পাশাপাশি আরও দুটি হোটেল ও তিনটি চার্চ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে।
নভরূপ বলেন, ‘আমার সামনে কী হচ্ছিল তা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল, এটা যেন একটা সিনেমা।’
অভিনবের কথায়, ‘আমি দুইবার সংযুক্ত আরব আমিররাতের বাইরে পা রেখেছি। একবার মুম্বইয়ে গিয়েছিলাম। আর এবার কলম্বোতে এলাম। আর দুইবারই এরকম ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সাক্ষী হলাম।’
কেপি