আবদুল্লাহ তামিম ♦ একজন মুসলিমের বিপদে আরেকজন এগিয়ে আসবে এটাই ইসলামের সৌন্দর্য। মানুষের দুঃখ কষ্ট, দারিদ্রতার সময় তার উপকার করতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
রাসুল সা. বলেন, কোনো মুসলিম যদি অপর মুসলিমকে এমন স্থানে অপদস্থ ও লাঞ্ছিত করে যেখানে সে তাকে সাহায্য করতে পারত; তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে এমন স্থানে অপদস্থ ও লাঞ্ছিত করবেন যেখানে সে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে।
হজরত ইবনে ওমর রা থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি মুসলমানের সাহায্যে পা বাড়ায় তাহলে বিনিময়ে আল্লাহ তার কদমকে সেই দিন (অর্থাৎ হাশরের মাঠে) স্থির রাখবেন, যেদিন সব পা স্থির থাকতে পারবে না। হজরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেন, আল্লাহ তায়ালা তৃষ্ণার্তকে সাহায্য করা পছন্দ করেন।
উপকার করার পন্থা যা ই হোক না কেন অবশ্যই নিয়্যাত ঠিক করে নিতে হবে অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে করা এবং পার্থিব কোনও উদ্দেশ্য যেমন, যার উপকার করা হলো তার কাছ থেকে কোন প্রতিদান কিংবা সামাজিক মর্যাদা পাওয়া এমন কোন পার্থিব উদ্দ্যেশে উপকার করা যাবেনা তাহলে সেটা আল্লাহ্ গ্রহণ করবেন না।
উপকার কেমন মানসিকতা নিয়ে করা উচিত আল্লাহ্ তাআলা তা বলে দিয়েছেন, আমরা তো তোমাদেরকে খাওয়াই কেবল আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। আমরা তোমাদেরকাছে কোনও প্রতিদান চাই না এবং কৃতজ্ঞতাও না। সূরাহ আল-ইনসান-৯।
কেউ যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কারো উপকার করে তখন আল্লাহ্ নিজেই তার প্রতিদান দিয়ে দেন দুনিয়া ও আখিরাতে।
সে আল্লাহর প্রিয় হয়ে যায়।
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবি সংকটগুলো থেকে একটি সংকট মোচন করে দেয়, আল্লাহ তা'আলা তার আখিরাতের সংকটগুলোর একটি সংকট মোচন করবেন।
যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্তের অভাব মোচনে সাহায্য করবে, আল্লাহ তাআলাও তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে স্বাচ্ছন্দ্য দান করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-গুণ গোপন করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন করবেন। আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে। সহিহ মুসলিম-২৬৯৯।
এজন্য কোন উপকার করলে তা হতে হবে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই। উপকার করার পর খোঁটা দেয়া নিকৃষ্ট কাজ গুলোর একটি।
এতে উপকার করার সাওয়াব নিষ্ফল তো হয়েই যায় এবং আল্লাহও অসন্তুষ্ট হন।
আল্লাহ্ এ সম্পর্কে কুরআনে বলছেন – উত্তম কথা ও ক্ষমা প্রদর্শন শ্রেয়, যে দানের পর কষ্ট দেয়া হয় তার চেয়ে, আর আল্লাহ অভাবমুক্ত, সহনশীল। সূরাহ আল-বাকà