আওয়ার ইসলাম: জানুয়ারি থেকে আগস্ট, মাত্র আট মাসে শুধু রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৪৩ পথচারী ও যাত্রী। খোদ পুলিশের হিসেবে বেরিয়ে এসেছে এমন তথ্য।
এ জন্য যানবাহনের দ্রুতগতি এবং পথচারীদের অসচেতনতাকে দায়ী করছে পুলিশ। দুর্ঘটনা কমাতে মহাসড়কে ফুটওভার ব্রিজ বাড়ানোর পাশাপাশি ইউলুপ ও ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ।
২৮ আগস্ট রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন দুলু মিয়া। চায়ের দোকান চালিয়ে ৬ সদস্যের পরিবার নির্বাহ করতেন তিনি। ৪৫ বছর বয়সী দুলু মিয়াকে হারিয়ে ঘোর অনিশ্চিয়তায় তার পরিবার।
স্থানীয়রা বলেন, তার মা আছে, ছেলে আছে, তার পরিবারটা কীভাবে চলে। রাতে যখন গাড়ি যায় এখানে কোনো স্পিড লিমিট থাকে না।
শুধু রাজধানীর রায়েরবাগ নয়, এ পরিস্থিতি কাজলা থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত পুরো মহাসড়কের। যাত্রাবাড়ী ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চে ৪ জন করে ১২ জন, এপ্রিলে ৩ জন, মে-মাসে ৪ জন, জুনে ৩ জন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
জুলাইতে ৯ জনসহ আগস্টে নিহত হয়েছেন ১৯ জন। হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা কয়েকগুণ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা। আর এসব দুর্ঘটনার জন্য সড়কের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছে পুলিশ।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর রহমান বলেন, মূল কারণ হচ্ছে, ওভার স্পিড, অসতর্কভাবে পারাপার। বিশেষ করে বয়স্ক ও নারীদের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বেশি হয়।
দুর্ঘটনারোধে ৮কিলোমিটার মহাসড়কের ৫টি স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি নানামুখী পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
সড়ক বিভাগ নারায়ণগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাতুয়াইল, মা ও শিশু হাসপাতাল, থানার পাড়, রেস্টুরেন্টের সামনে ও সিমড়াইল ও সাইনবোর্ডের দুইপাশে ইউলুপ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মহাসড়ক যানজট মুক্ত রাখতে দখল উচ্ছেদ ও গণসচেতনা অভিযান অব্যাহত রাখারও প্রতিশ্রুতি এ কর্মকর্তার।
৮ মাসে কাজলা থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত মহাসড়কে অর্ধশত দুর্ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা কয়েকগুণ। দুর্ঘটনারোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি সাধারণ মানুষের।
-এটি