রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৪ মাঘ ১৪৩২ ।। ২৯ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাহিদ ইসলামকে শোকজ ইন্দোনেশিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহতের আশঙ্কা সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সংহতি প্রকাশ শায়খে চরমোনাইয়ের আসনে প্রার্থী না দেওয়ার ঘোষণা জামায়াতের ‘তাঁর বাংলা ভাষাজ্ঞান ছিল ঈর্ষণীয়, মেধায় ছিলেন তুখোড়’ ভারতে খালি বাড়িতে নামাজ পড়ার অভিযোগে আটক ১২ শায়খ আহমাদুল্লাহর সঙ্গে ছবি তোলায় শোকজ, প্রতিবাদ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না : আখতার হোসেন নূরানী বোর্ডের কেন্দ্রীয় সনদ পরীক্ষার মেধাবীদের পুরস্কার বিতরণ শুরু জোটের স্বার্থে মনোনয়ন প্রত্যাহার জমিয়ত নেতা ড. শোয়াইব আহমদের

‘তাঁর বাংলা ভাষাজ্ঞান ছিল ঈর্ষণীয়, মেধায় ছিলেন তুখোড়’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মনযূর আহমাদ

সদা হাস্যোজ্জল প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর মানুষটি হাঠাৎ-ই চির দিনের জন্য চোখের আড়ালে চলে গেলেন। খবরটি শুনে বুমূঢ়, বিস্মিত হয়েছিলাম; কিন্তু এটাই বাস্তব। তিনি এখন পৃথিবীতে নেই। পরপারের মেহমান। আর দেখা হবে না, কথা হবে না। আমরা এক সাথে কত বিষয় নিয়ে আলাপ করতাম। আমি তার আলাপা থেকে উপকৃত হতাম।

আসলেই তিনি ছিলেন উপকারী এক ব্যক্তি। যার দ্বারা আমরা বহুভাবে উপকৃত হয়েছি। তিনি ছিলেন বহু মাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। শিক্ষক, লেখক ও সম্পাদক হিসেবে তিনি ছিলেন অসাধারণ। তাঁর বাংলা-ভাষাজ্ঞান ছিল ঈর্ষণীয়। মেধায় ছিলেন তুখোড়। ব্যক্তি ও সমাজ সম্বন্ধে তাঁর বিশ্লেষণ ছিলো হৃদ্য ও শাণিত। মৃত্যু এক অনিবার্য সত্য।

আমি তাকে ‘জুবাইর সাহেব’ই ডাকতাম। আমার এই ডাক শুনে তিনি মিটিমিটি হাসতেন। বলতেন, আমি তাহলে ‘সাহেব’! বলতেন, ‘আপনি এত সুন্দর করে ডাকেন!’ তাঁর সাথে আমার পরিচয় এই শতকের প্রথম দশকের শুরু থেকে। তাঁর অনুবাদে প্রকাশিত আলি মিয়া নদবির ‘কারওয়ানে মদীনা’ পড়ার মুগ্ধতা টেনে গিয়েছিলো আজিমপুর ফয়জুল উলুম মাদরাসায়। আমি তাঁকে ‘রহমত’-এ নিয়মিত লেখার অনুরোধ করলাম। তিনি আমার অনুরোধ রাখলেন।

‘রহমত’-এ নিয়মিত লিখতে থাকলেন। ‘রহমত’-এ তাঁর বহু লেখা ছাপা হয়েছে। তাঁরই গ্রহণ করা ড. দীন মুহাম্মাদ সাহেবের সাক্ষাৎকার ‘রহমত’-এ প্রকাশিত হয়েছে। মালিবাগ মাদরাসার শায়খুল হাদিস ও মুহতামিম কাজী মু’তাসিম বিল্লাহর জীবনী ‘রহমত’-এ তিনিই লিখেছিলেন। ‘রহমত’ তাঁর স্মৃতির এক অবিস্মরণীয় ভাণ্ডার। আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতের উচ্চ আসন দান কওে সম্মানীত করুন।

তিনি ছিলেন সরল ও সতর্ক মানুষ। ব্যক্তি ও সমাজ বিষয়ে তাঁর অকপট মূল্যায়ন আমাকে বহুভাবে উপকৃত করেছে এবং সাবধান হতে সাহায্য করেছে। তাঁর জীবনে তিনিজন ব্যক্তির প্রভাব আমি লক্ষ্য করেছি- কাজি মুতাসিম বিল্লাহ সাহেব, সাঈদ আহমাদ পালনপুরী সাহেব ও ড. কাজী দীন মুহাম্মদ সাহেব। তিনি আমাদের ‘আনতারা’র জন্য কাজী দীন মুহাম্মদ-এর বাংলা ভাষার ইতিহাস বিষয়ক তিন খণ্ডের বিশাল বইটির সার- সংক্ষে তৈরি করেছিলেন। পরে যেটি ‘নাশাত’ থেকে বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ছোটদের জন্য সীরাতও লিখেছিলেন। মনযূরুল হকের মূল্যায়নে যেটি বাংলা ভাষার এক অমূল্য সম্পদ। তিনি কাছাকাছি কয়েক বছরে খুব কম লিখেছেন। এর কারণ, আমার মনে হয়, কেউ তাগিদ দিয়ে লিখিয়ে নেননি। যা ‘রহমত’ করত। তিনি নিয়মিত লিখলে- আমার মনে হয়, বাংলাদেশের ‘আব্দুল আজিজ আল আমান’ হতে পারতেন। সেই মেধা ও প্রতিভা তাঁর ছিলো।

আমার বন্ধুর সংখ্যা খুবই কম- যাদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলতাম। গতকাল তাদের একজন- জুবাইর আহমাদ আশরাফকে হারালাম। আপনি বরজখে ভালো থাকুন- ভালো-ই থাকবেন। কেননা, আপনি ভালো মানুষ ছিলেন। কপটদের ভীরে আপনার সাধুতা আমাদের অনুপ্রাণীত করবে যুগের পর যুগ ও কালের পর কাল। আপনি অবিরাম আল্লাহর স্নিগ্ধ রহমতের ধারায় সিক্ত হোন।

লেখক: প্রবীণ সম্পাদক, লেখক


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ