মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


মনীষীরা যেভাবে রমজান কাটাতেন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি নূর মুহাম্মদ রাহমানী।।

রমজান ইবাদতের বসন্তকাল। পরকালের সম্বল ও পাথেয় সংগ্রহের মৌসুম। এ মাসে অল্প মেহনতেও অধিক ফল লাভ করা যায়। পবিত্র মাহে রমজান হলো আখেরাতের সম্বল সংগ্রহের সেই বিশেষ মৌসুম। এ মাসের সিয়াম সাধনা মানবজীবনকে করে তুলে পুতঃপবিত্র। হাদিস শরিফ অধ্যয়নে এ কথা পরিষ্কার বুঝে আসে যে, আসলেই রমজান মাস একটি আহরণের মাস। অর্জনের মাস। কুড়ানোর মাস।’ অসংখ্য কল্যাণ অর্র্জনে ধন্য হওয়া যায় এ মাসে।

মনীষীগণ আমাদের আদর্শ। আমাদরে প্রেরণা। আমাদের চালিকাশক্তি। তাদের আমল দেখে আমরা কুরআন-হাদিসের নির্যাস সংগ্রহ করতে পারি। তাদের অনুসরণ করতে বলেছেন মহান আল্লাহ। কুরআনের ভাষ্যে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এরা এমন ছিল, যাদের আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেছিলেন। অতএব, তুমিও তাদের পথ অনুসরণ করো।’ (সূরা আনআম, আয়াত : ৯০)

রমজানে মনীষীদের কুরআন তিলাওয়াত:

রমজানের সঙ্গে কুরআনের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। কুরআন নাজিলের মাস রমজান। আমাদের নবীজি (সা.) নামাজে কুরআন বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াতের প্রতি খুব গুরুত্ব দিতেন। এর অনুসরণ করেছেন মহান মনীষীগণ। দেখা যায়, পুণ্যবান মনীষীগণ রমজান এলে তাদের দরস বা পাঠদান বন্ধ করে দিতেন। নিজের ইবাদতের প্রতি মনোনিবেশ করতেন। কুরআন নিয়ে মশগুল থাকতেন। তাদের আমল ও কর্ম আমাদের জন্য অনুসরণীয়। কোনো কোনো মহামনীষীদের কুরআন তিলাওয়াতের পরিধি এত অধিক যে রীতিমতো আশ্চর্য হতে হয়।

ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.)-এর ব্যাপারে প্রসিদ্ধ আছে যে, তিনি রমজান মাসে ৬১ খতম তিলাওয়াত করতেন।
হাদিসের সবচেয়ে বিশুদ্ধতম গ্রন্থ সহিহ বুখারি গ্রন্থকার ইমাম বুখারি (রহ.) রমজানে সাথীদেরকে একত্রিত করতেন। তিনি সবার ইমামতি করতেন। প্রত্যেক রাকাতে বিশ আয়াত তিলাওয়াত করতেন। এভাবে সমগ্র কুরআন খতম করতেন। প্রত্যেক দিন সেহরি পর্যন্ত কুরআনের এক তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতেন। এভাবে তিন রাতে কুরআন খতম করতেন। রমজানের প্রতি দিনে একবার কুরআন খতম করতেন। কুরআনের এই খতম শেষ হতো ইফতারের সময়। প্রত্যেক খতম শেষে দোয়া-মুনাজাতের প্রতি খুব গুরুত্ব দিতেন। (ফাতহুল বারি ১/৪৮১)

কুতুবে আলম হজরত রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি (রহ.) বাদ মাগরিব আওয়াবিনে দু’পারা ও তাহাজ্জুদসহ দৈনিক অর্ধ খতম কুরআন তিলাওয়াত করতেন।

আল্লামা কাসেম নাতুতুবী (রহ.) ১২৭৭ হিজরিতে মক্কা-মদিনা সফরকালে রমজান মাসে কুরআন পাক মুখস্ত করেছিলেন। এরপর থেকে তিনি বেশি বেশি তিলাওয়াত করতেন। একবার তিনি এক রাকাতে সাতাশ পারা তিলাওয়াত করেছিলেন।

রমজানে তাদের নামাজ:

রমজানে পূর্বউত্তসূরী ওলামায়ে কেরামের নফল নামাজের পরিমাণ অনেক বেড়ে যেতো। তারাবিহ ছাড়াও তারা অনেক নামাজ পড়তেন। হজরত খলিল আহমদ সাহারানপুরী (রহ.) মৌসুমভেদে সুবহে সাদিকেà¦