মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দিন শেষ হয়ে এলে  এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ২৫–২৯ অক্টোবর টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৪ শিশুর মৃত্যু   সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান

রমজানে পুণ্যবান মনীষীদের কুরআন প্রেম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি নূর মুহাম্মদ রাহমানী।।

রমজান এবং কুরআন একটি অপরটির সাথে গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। ইমাম রাজি (রহ.) বলেন, রোজা এবং কুরআন নাজিলের মধ্যে গভীর সম্পর্ক। যখন এই ফজিলতপূর্ণ মাসটিকে কুরআন নাজিলের সাথে খাস করা হলো তখন জরুরি ছিল এই মাসটি রোজার সাথেও খাস হবে। (তাফসিরে কাবির ৩/৯৮)

নবী হজরত মুসা (আ.)-কে যখন আল্লাহ তায়ালা আসমানি কিতাব প্রদানের ইচ্ছা করলেন তখন তাঁকে এক মাস পর্যন্ত রোজা রাখার আদেশ দিয়েছেন। এরপরে দশদিন বৃদ্ধি করেন। তারপরে গিয়ে কালামে ইলাহি প্রদান করা হয়।

এইজন্য অন্যান্য মাসের তুলনায় রমজানে নবীজি (সা.) দীর্ঘ কেরাত পড়তেন। রমজানের এক রাতে নবীজির কুরআন তিলাওয়াত: নবীজি (সা.) অনেক বেশি কুরআন তিলাওয়াত করতেন। নামাজেও দীর্ঘ দীর্ঘ সূরা পড়তেন। একবার সাহাবি হজরত হুজাইফা (রা.) নবীজি (সা.) এর পিছনে নামাজে দাঁড়ালেন। নবীজি (সা.) সূরা বাকারা পড়লেন। অতঃপর সূরা নিসা পড়লেন। অতঃপর সূরা আলে ইমরান পড়লেন। তিলাওয়াতে আজাবের আয়াত আসলে থামতেন। মাত্র দুই রাকাত নামাজে নবীজি (সা.) এই দীর্ঘ কেরাত পড়েছেন। অতঃপর হজরত বেলাল (রা.) এসে ফজরের নামাজের জন্য আজান দিলেন।’ (মুসনাদে আহমদ) ইমাম নাসায়ি (রহ.) বর্ণনা করেছেন, নবীজি (সা.) এর ঐ নামাজ ছিল চার রাকাতবিশিষ্ট।

মনীষীদের কুরআন তিলাওয়াতের আধিক্য:

নবীজির নামাজে কুরআন তিলাওয়াতের এই গুরুত্বারোপকে অনুসরণ করেছেন মহামনীষীগণ। এইজন্য দেখা যায়, পুণ্যবান মনীষীগণ রমজান এলে তাদের দরস বা পাঠদান বন্ধ করে দিতেন। নিজের ইবাদতের প্রতি মনোনিবেশ করতেন। কুরআন নিয়ে মশগুল থাকতেন। তাদের আমল ও কর্ম আমাদের জন্য অনুসরণীয়। মনীষীদের কেউ কেউ রমজানের মাত্র তিন রাতে পুরা কুরআন খতম করেছেন। কেউ কেউ আবার সপ্তাহে এক খতম করেছেন। আবার কেউ কেউ দশদিনে এক খতম করেছেন। (লাতাইফুল মাআরিফ ১/১১)

কোনো কোনো মহামনীষীদের কুরআন তিলাওয়াতের পরিধি এত অধিক যে রীতিমতো আশ্চর্য হতে হয়। মহা গ্রন্থ কুরআন তিলাওয়াত বেশি বেশি করার আগ্রহ যাতে আমাদের সৃষ্টি হয় এজন্য ইতিহাসের পাতা থেকে এখানে কয়েকজন মহামনীষীর রমজানে কুরআন তিলাওয়াতের ঘটনা উল্লেখ করা হলো।

ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.)-এর ব্যাপারে প্রসিদ্ধ আছে যে, তিনি রমজান মাসে ৬১ খতম তিলাওয়াত করতেন।

হাদিসের সবচেয়ে বিশুদ্ধতম গ্রন্থ সহিহ বুখারি গ্রন্থকার ইমাম বুখারি (রহ.) সাথীদেরকে একত্রিত করতেন। তিনি সবার ইমামতি করতেন। প্রত্যেক রাকাতে বিশ আয়াত তিলাওয়াত করতেন। এভাবে সমগ্র কুরআন খতম করতেন। প্রত্যেক দিন সেহরি পর্যন্ত কুরআনের এক তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতেন। এভাবে তিন রাতে কুরআন খতম করতেনà