মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেবেন প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ-গ্যাসে ৭ মাসের ভর্তুকি একমাসে দিতে হয়েছে: গণপূর্তমন্ত্রী সীতাকুণ্ডে ‎বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ‎ গওহরডাঙ্গা বেফাকের ৫০তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণী ২০ সেপ্টেম্বর ৫ সেপ্টেম্বর জামিআ ইকরায় ‘খুতুরাতুত তাকফির’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ক্রস বর্ডার অ্যাডুকেশনে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী নাজমুল হুদা মজনুর একজোড়া কাব্য  জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও মূল্যস্ফীতি ইস্যুতে কর্মসূচি ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না: তারেক রহমানকে ট্রাম্প নিজের জীবনের পুরো সঞ্চয় দিয়ে মসজিদ নির্মাণ ৮৪ বছরের বৃদ্ধের

মহামারির মধ্যে আরও একটি ঈদ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে দুটি ঈদুল ফিতর এবং একটি ঈদুল আজহা পেরিয়ে মহামারির মধ্যে এলো আরও একটি ঈদ, মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা।
উৎসব এলেও সবকিছুর মধ্যে একটা ভয় লুকিয়ে আছে। অদৃশ্য একটা শত্রু সবাইকে তাড়া করে ফিরছে।

যা ঈদের আমেজকে করেছে ম্রীয়মান। ঈদের মাঝে লুকিয়ে থাকা আমেজ বলতে গেলে গিলে খেয়েছে এ মহামারি। অত্যধিক মাত্রায় সংক্রমণশীল এ ভাইরাস দ্রুতই রূপ বদলেছে, বাড়িয়েছে মানুষের বিপদ। প্রাণ তো কেড়েছেই নিঃস্ব করে ছেড়েছে কোটি কোটি মানুষকে।

তবে পরিস্থিতি আগের মতো না থাকলেও কিন্তু ধর্মীয় এ উৎসব উদযাপনে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুসারীদের চেষ্টার কমতি দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে।

ঈদুল-আজহা ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশে কুরবানি করতে গিয়েছিলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে এ আদেশ ছিল ইব্রাহিমের জন্য পরীক্ষা। তিনি পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশে জবাই করার সব প্রস্তুতি নিয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।

বর্ণিত আছে, নিজের চোখ বেঁধে পুত্র ইসমাইলকে বেঁধে যখন জবাই সম্পন্ন করেন, তখন চোখ খোলার পর দেখেন ইসমাইলের পরিবর্তে পশু কুরবানি হয়েছে, যা এসেছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে।

সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধারণ করেই ইব্রাহিম (আ.)-এর ওয়াজিব হিসেবে পশু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে কুরবানির বিধান এসেছে ইসলামি শরিয়তে। সেই মোতাবেক প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কুরবানি করা ওয়াজিব।

ধর্মীয় এ নির্দেশ পালনে চেষ্টার কোনো ঘাটতি রাখতে চান না মুসলমানরা। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ওই করোনাভাইরাস। এবার গ্রামে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে এক ধরনের আতঙ্ক। এরইমধ্যে মহামারির কারণে কিছুটা কম হলেও সারা দেশে বিরাজ করছে ঈদের আমেজ।

করোনারভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কঠোর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়। এরপরই রাজধানী ছাড়তে শুরু করে মানুষ। এরমধ্যে প্রায় প্রতিদিন দেশের সবখানেই কুরবানির পশুর হাটগুলোতে ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়।

তাই উৎসব উদযাপনের মধ্যেও সতর্ক থাকা চাই। এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নামাজ আদায় করতে যাওয়া থেকে শুরু করে পশু কুরবানি, মাংস বিতরণ, দাওয়াতে অংশ নেওয়াসহ সব ক্ষেত্রেই মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।

সর্বোপরি ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পবিত্র ঈদুল আজহায় সৃষ্টিকর্তার কাছে করোনামুক্ত বিশ্ব প্রার্থনা করবেন মুসলমানরা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মহামারির মধ্যে ত্যাগের এ ঈদ বয়ে আনুক স্বস্তি, দূর হোক অদৃশ্য ভাইরাসের দাপট। ঈদ মোবারক।

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ