নূর মুহাম্মদ রাহমানী।। উম্মে হাবিবা রা.। ইতিহাসের আকাশে অন্তহীন আলো ছড়ানো এক নাম। ধৈর্যের উপমা। এই গুণের সার্থক সমৃদ্ধ জীবন। পৃথিবী এখনও আবাদ-চঞ্চল তাদেরই নামে। বাবা আবু সুফিয়ান ইবনে হারব ইবনে উমাইয়া ইবনে আবদে শামস। মা সাফিয়া বিনতে আবিল আস ইবনে উমাইয়া ইবনে আবদে শামস ইবনে আবদে মানাফ। তিনি ইসলামের চতুর্থ খলিফা ওসমান রা. এর ফুফু। অর্থাৎ উম্মে হাবিবা রা. ওসমান রা. এর ফুফাত বোন।
উম্মে হাবিবা রা. এর জন্মদিনের ঘটনা। ঘরে কয়েকজন নারী, আবু সুফিয়ান সোজা ভেতরে গেলেন, যেখানে বিবি সাফিয়া নবজাতক কন্যা নিয়ে বসা ছিলেন। অপলক নেত্রে তাকিয়ে থাকেন আপন কন্যার প্রতি। আনন্দের সায়রে ডুবতে থাকেন।
বিবি সাফিয়া স্বামীর চেহারায় খুশির আভা প্রত্যক্ষ করলেন। আবু সুফিয়ান বললেন, আমার অন্তর বলছে, আমাদের নবজাতক আত্মজা অনেক বরকতময় হবে। সাফিয়া বললেন, হাঁ, তাই হবে। আবু সুফিয়ান খুব গভীরভাবে লক্ষ্য করে দেখলেন, তার চেহারায় আশ্চর্য রকমের আলো চমকাচ্ছে। তিনি বুঝতে পারলেন, এ বাচ্চা পুরো বংশের জন্য রহমত হবে।
বাবা আবু সুফিয়ান নাম রেখেছিলেন রামলা। বাবা-মায়ের চোখের তারা। কোনো চাহিদা আর আবদার অপূর্ণ রাখতেন না। ছোট কোনো কষ্টেও খুব পেরেশান হতেন উভয়ে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত পাত্রও খুঁজতে শুরু করেন। শেষে উবাইদুল্লাহ ইবনে জাহাশের খোঁজ পেয়ে পুলকিত হন।
উবায়দুল্লাহর মা-বাবার কাছেও আবু সুফিয়ান কন্যা রামলার যৌবনে পদার্পন এবং বিভিন্ন দিক থেকে প্রস্তাব আসার সংবাদ পৌঁছল। তখন তারাও যোগ্য, সুদর্শন ও চরিত্রবান আত্মজের জন্য আবু সুফিয়ান পরিবারে আত্মীয়তা করাকে বেছে নিলেন। আবু সুফিয়ান রা. (তখনও তিনি মুশরিক) সুদর্শনা কন্যা রামলার বিয়ে অনুষ্ঠানে আরবের নানা গোত্রের নেতৃস্থানীয় লোকেরা অংশগ্রহণ করলেন। (উম্মাহাতুল মোমিমিন, প্রফেসর খালেদ, পৃ. ২৬৪)।
প্রিয়নবী সা. সাহাবিদের মজলিসে বসা ছিলেন। উবাইদুল্লাহ ও রামলা যুগলকে আসতে দেখে তাদের চেহারায় ভেসে ওঠল নুরানি আভা। তারা রাস্তা দিয়ে দিলেন। উভয়ে গিয়ে রাসুলের পায়ের কাছে বসলেন। রাসুল সা. জিজ্ঞেস করলেন, কেন এসেছ? হে আল্লাহর রাসুল, আপনার দ্বীনে দীক্ষিত করলে কৃতজ্ঞ হব। রাসুল সা. জিজ্ঞেস করলেন, কার কন্যা তুমি? রামলা বললেন, আমি আবু সুফিয়ানের কন্যা। আপনার নবুওয়াতের কথা শুনে মনটা আনন্দে ভরে ওঠল। অতঃপর স্বামী-স্ত্রী কালেমায়ে শাহাদাত পড়ে ইসলাম গ্রহণে ধন্য হন। উপস্থিত লোকদের তখন খুশির অন্ত ছিল না! (আজওয়াজুর রাসুল উম্মাহাতুল মোমিনিন, পৃ. ৪৮৫-৪৮৬)।
জীবনের অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কারণ বাবা মক্কার প্রভাবশালী নেতা আবু সুফিয়ান ইবনে হারব। পরিণতি সম্পর্কে জেনেও ইসলাম গ্রহণ থেকে কেউ তাকে ফেরাতে পারেনি।
ইসলাম গ্রহণের পর স্বামী-স্ত্রà