আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: জ্বালানি তেলের বাড়ানোর পর লঞ্চের ভাড়া যতটুকু বাড়ানো হয়েছে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে লঞ্চ যাত্রী ঐক্য পরিষদ। লঞ্চের ভাড়া আগে থেকেই বেশি আদায় করা হতো, বর্ধিত ভাড়া নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করে সংগঠনটি। এজন্য তারা বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে সংগঠনটি এই দাবি জানায়।
লঞ্চ যাত্রী ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি হাসান আল মেহেদি বলেন, ‘দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম নৌপথ। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষরা লঞ্চের নিয়মিত যাত্রী। কিন্তু বাড়তি ভাড়া তাদের ওপর বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’
মেহেদি বলেন, ‘তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে যাত্রীদের কথা বিবেচনা না করে লঞ্চ মালিকরা ৩৫ শতাংশ ভাড়া বাড়ালেন। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ২৩ শতাংশ বাড়লেও লঞ্চ মালিকরা ভাড়া ৩৫ শতাংশ বাড়ে। যাত্রীদের আয় কত শতাংশ বেড়েছে?’
সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান দুর্জয় বলেন, করোনাকালেও লঞ্চ মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছে, এটা সবারই জানা। তখন ১০০ টাকার ভাড়া ১১৫ টাকা, চেয়ারের ভাড়া ১৫০ টাকার জায়গায় ১৭০ টাকা করে আদায় করেছে। ফলে এমনিতেই তারা ভাড়া বাড়িয়েছে। এখন নতুন করে আবার ভাড়া বাড়ানোর ফলে দেখা যায়, ডেকের ভাড়া ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ টাকা, চেয়ার ১৮০ টাকা থেকে ২২০ টাকা, নন-এসি সিঙ্গেল কেবিন ৫০০ থেকে বেড়ে ৬০০ টাকা, ডাবল কেবিন এক হাজার থেকে বেড়ে ১২শ টাকা, এসি সিঙ্গেল কেবিন ৭০০ এবং ডাবল কেবিন ১৪শ’ টাকা হয়েছে।
সংগঠনটির সদস্য জহির রায়হান বলেন, অনেক জায়গায় দেখা যায় একেক লঞ্চ একেক রকম ভাড়া নিচ্ছে। প্রতি কিলোমিটারে ৬০ পয়সা ভাড়া বাড়ালেও যাত্রীদের কাছ থেকে তার চেয়ে বেশি আদায় করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত লঞ্চের স্টাফদের যাত্রীদের কথা-কাটাকাটি হয়। আমরা একই সঙ্গে নৌপথে সকল যাত্রী হয়রানি বন্ধ ও যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
-এএ