আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: ঢাকার কেরানীগঞ্জে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (দক্ষিণ ডিবি) ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
এসময় পুলিশ ডাকাতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রলার ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা হয়।
রোববার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকা জেলা পুলিশের কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাহাবুদ্দিন কবির এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান, গত ২ নভেম্বর দিবাগত রাত অনুমান ২.৩০ মিনিটের দিকে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার নতুন সোনাকান্দা গ্রামে জনৈক বেলায়েত হোসেনের বাড়িতে অজ্ঞাতনামা ডাকাতরা প্রবেশ করে বাড়ির সবাইকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে মারধর করে মোবাইল ফোন, স্বর্ণলাংকার, নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবীর (কেরানীগঞ্জ, সার্কেল) ঢাকা এর তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, (ডিবি ঢাকা জেলা দক্ষিণ) এর নেতৃত্বে এসআই মো. রাজীব হোসেন, এসআই মো. আল আমিন হাওলাদারের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম উক্ত মামলার রহস্য উদঘাটনে কার্যক্রম শুরু করে।
পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত ৮ ডিসেম্বর প্রথমে ডাকাত মনির ওরফে ছোট মনিরকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাত দলের দলনেতা আনোয়ার হোসেন ফকুসহ দলের সদস্য মীর্জন খালাসী, রহুল আমিন, মজিবুর ওরফে টিক্কা ও রাকিবকে ঢাকা জেলা ও তার আশেপাশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্য মোতাবেক ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রলার ও বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তারা নদী পথে ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ ডাকাতি করে আসছিল এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মলেন আরও জানানো হয়, গত ২১ নভেম্বর রাত অনুমানিক ৯টার দিকে ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার পাইকশা গ্রামে নবাবগঞ্জ-দোহার সড়কে জনৈক মো. রহমত উল্লাহর পিকআপ গাড়ি আটকিয়ে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর করে নগদ টাকা, স্বর্ণলাংকার, মোবাইল, কাপড়সহ বিভিন্ন মালামাল ডাকাতি করে নিয়ে যায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ডাকাত আজিজ, বিপ্লব জমাদ্দার ওরফে বেলায়েত ও মুন্নাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
জ্ঞিাসাবাদে তারা ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার করেরগাঁও এলাকায় একাধিক অপরাধ সংঘটনের কথা স্বীকার করে। পাশাপাশি একই থানার একাধিক মামলায় সরাসরি জড়িত মর্মে স্বীকার করে। ডাকাতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করার জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
-এএ