আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: আয় না বাড়লেও লাগামহীনভাবে বেড়েই চলছে নিত্যপণ্যের দাম। খরচ কমাতে অনেক চাকরিজীবী দুপুরে ভাতের বদলে খাচ্ছেন কলা-রুটি। তবুও সংসার চালাতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
গত একমাসে দেশের বাজারে ১৬টি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) খুচরা বাজার দরের তথ্য পর্যালোচনা করে এমন চিত্র পাওয়া যায়।
টিসিবির তথ্য বলছে, গত একমাসে সবচেয়ে বেশি ৩৩ শতাংশ দাম বেড়েছে রসুনের। গত ফেব্রুয়ারিতে রসুন ৩০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৪০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
১৫ শতাংশ দাম বেড়েছে দেশি আদার। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রতি কেজি আদার দাম ছিল ৮০-১২০ টাকা, মার্চে সেটা বিক্রি হচ্ছে ৯০-১৪০ টাকায়। শুকনো মরিচের দাম বেড়েছে ১২ শতাংশের বেশি। দেশি হলুদের দাম বেড়েছে ২.৩৮ শতাংশ, জিরা ৪.৫ শতাংশ, ধনিয়া ৪ শতাংশ, এলাচের দাম বেড়েছে ১ শতাংশ।
দেশে পর্যাপ্ত মজুদ ও উৎপাদন হলেও চালের দাম বেড়েই চলছে। টিসিবি বলছে, একমাসের ব্যবধানে চিকন চালের দাম ১.৫৬ শতাংশ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। মাঝারি চাল ১.৮৫ শতাংশ বেড়ে ৫০-৫৬ টাকা এবং মোটা চাল ১.৬ শতাংশ বেড়ে ৪৫-৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও বাজারে চালের দাম আরও বেশি।
রমজানের আগেই বেড়েছে মসুর ডালের দাম। প্রতিকেজি মসুর ডালের দাম ৫.১৩ শতাংশ বেড়ে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অ্যাংকর ডাল ১২.২৪ শতাংশ বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আলুর দাম ৮.১৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮-২০ টাকায়। বাজারে বর্তমানে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও একমাসের ব্যবধানে তা ৫.৮৮ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিকেজি পেঁয়াজ বর্তমানে ৪০-৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ভ্যাট প্রত্যাহারের পর বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে এক মাসের ব্যবধানে সয়াবিন তেলের দাম ২.১৩ শতাংশ এবং পামওয়েল ৭.২ শতাংশ বেড়েছে।
খোলা আটার দাম ৭.১৪ শতাংশ বেড়ে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং ময়দার দাম ২ শতাংশের কিছু বেশি বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়।
নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে অনেকেই মাংস খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। তবুও বেড়েছে মাংসের দাম। এক মাসের ব্যবধানে দেশি মুরগির দাম ১৪.৯৪ শতাংশ, ব্রয়লার মুরগির দাম ৬.৬৭ শতাংশ, খাসির মাংসের দাম ৫.৮৮ শতাংশ এবং গরুর মাংসের দাম ৪.১০ শতাংশ বেড়েছে বলে টিসিবির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
-এটি