ফারুক ফেরদৌস : কাশ্মীরের সঙ্গে দু’জন নারীর নাম উচ্চারিত হয় বেশ কিছু দিন ধরেই। সাম্প্রতিক কালে কাশ্মীরের সবচে’ আলোচিত ব্যক্তিত্ব এই দুই নারী। একজন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মাহবুবা মুফতি আরেকজন স্বাধীনতাকামী নেত্রী আসিয়া আন্দ্রাবি।
মাহবুবা মুফতি সম্প্রতি কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট মাহবুবা কাশ্মীরের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী এবং ভারতের দ্বিতীয় মুসলিম নারী মুখ্যমন্ত্রী।
গত ৭ জানুয়ারি কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তার বাবা মুফতি মুহাম্মদ সাঈদ মৃত্যু বরণ করেন। মাহবুবা তখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। বিজেপির সাথে জোট করার ব্যাপারে বাবার সাথে তার মতবিরোধ ছিলো। চার মাস কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের সাথে অনেক বৈঠক ও শর্ত চালাচালির পর মাহবুবা গত ৪ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন।
মাহবুবা মুফতির জন্ম ১৯৫৯ সনের ২২ মে। তিনি বড় হয়েছেন রাজনীতির আবহে। তার বাবা মুফতি মুহাম্মদ সাইদ ভারতের প্রথম মুসলিম হোম মিনিস্টার, রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন ১৯৫০ সন থেকে। কাশ্মীর ইউনিভার্সিটিতে আইনের উপর পড়াশোনা করা মাহবুবার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় কংগ্রেসের টিকেটে বিজবেহারা রাজ্য থেকে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে।
১৯৯৯ সনে বাবাকে সাথে নিয়ে পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিবি) প্রতিষ্ঠা করেন মাহবুবা। সবাই ভাবছিলেন তিনিই পিডিবির প্রেসিডেন্ট হবেন। কিন্তু তিনি তার অভিজ্ঞ বাবাকে প্রেসিডেন্ট করে নিজে ভাইস প্রেসিডেন্ট হন।
কাশ্মীরে ২০০২ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলো পিডিবি। ২০১৫ এ বিজেপির সাথে জোট করে আবার কাশ্মীরে সরকার গঠন করেছে পিডিবি। কিন্তু নিজের ইচ্ছায় তিনি বরাবরই সরকারের বাইরে ছিলেন। বাবাকে রাজ্য শাসনের দায়িত্ব দিয়ে নিজে দলের সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থেকেছেন।
২০১৬র জানুয়ারির শুরুতে তার বাবা মারা যাওয়ার পরও তিনি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করতে চাননি। বিশ্লেষকরা বলছেন, কাশ্মীরের নতুন মুখ্যমন্ত্রী মাহবুবা মুফতির সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আজীবন লড়াকু মাহবুবা নিশ্চই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই কাশ্মীরের গণমানুষের নেত্রী হিসেবে নিজের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন।
মাহবুবা তখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। বিজেপির সাথে জোট করার বà