মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
নেপালে টানা বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধসে ৪ দিনে ২১ জনের মৃত্যু বাংলাদেশসহ ২০ দেশের ওষুধে শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়ায় আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৪  আল্লাহর নৈকট্য পেতে প্রতিদিন পড়ুন ৮ নফল নামাজ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা: ডা. জাহেদ ‘বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন এআই-সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি’ পাঠ্যবইয়ের মান যাচাইয়ে মধ্যরাতে ৬ প্রেসে শিক্ষামন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম আল-আকসায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা সৌদি আরবের

হিজাবি নারী ক্যাপ্টেন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

hijabi pজাকারিয়া হারুন : আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে একজন নারীর পুরোদস্তুর হিজাবি হওয়াটা এক ধরনের শক্ত প্রতিবন্ধকতা। হিজাব উন্নতি-অগ্রগতির অন্তরায় এমন ভাবনা অনেক নারীই পোষণ করেন। তবে প্রাচ্যে এ ধারণা বদলে দিয়ে নারীদের চ্যালেঞ্জিং পেশায় আপাদমস্তক হিজাবি হয়েও যে সফল হওয়া যায়, তার উৎকৃষ্ট  উদাহারণই তৈরি করলেন শাহনাজ নামের স্বাপ্নিক এই নারী।

আজকের দিনে একজন সফল নারী পাইলট শাহনাজ। আধুনিক উচ্চশিক্ষিতা। সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই মেয়েটি ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতো আকাশে উড়ার। এ স্বপ্ন সব সময় তাকে বুঁদ করে রেখেছে। ছোটবেলা থেকেই বিমানবন্দরের পাশে, নিজেদের বাড়ির ব্যালকনি থেকে, যখনই প্লেন উড়ে যেতে, তখনই ভেতরের অদম্য ইচ্ছেগুলো খোঁচা দিতো সেদিনের ছোট্ট মেয়েটির মনে। খুব ছোট বেলা থেকেই পারিবারিক কঠোর অনুশাসন আর ইসলামিক রীতিনীতির সাথে বেড়ে উঠে।

এই মেয়েটির জীবনের লক্ষ্য পূরণে  প্রথমেই বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় হিজাব। তখন পর্যন্ত বিশ্বের কোথাও কোনো নারী পাইলট সেভাবে ছিলো না। উপরন্তু হিজাবি নারীর কল্পনা করা, অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই না। শাহনাজ সবসময় থাকতেন হিজাবের ভেতর। ইজ্জত আব্রুকে সম্মান দিতেন। কিন্তু তার লক্ষ্য ছিলো অটুট। আর ইচ্ছা ছিলো দৃঢ়। নিজের দৃঢ়প্রত্যয় আর অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণে এসব বাঁধা হতে পারেনি বেশিদিন।

শাহনাজের বাবা নুর মোহাম্মদ। পেশায় একজন সফল ইঞ্জিনিয়ার। মা  সালমা বেগম। পেশায় গৃহিণী। একজন উচ্চবংশীয় নারী। পরিবারে বাবা-মায়ের কাছ থেকেই নিজের লক্ষ্য পূরণের উৎসাহ পান শাহনাজ। ছোট বেলা থেকেই মানুষের জন্য তার মন দরাজ ছিলো। মানবতাবাদী  ছিলেন তিনি। ইসলামে জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলেন।

তিনি নিজেই মাত্র শৈশব পার করেছেন। এ ছোট বয়সেই বান্ধবীদের নিয়ে, বাবার সহায়তায় গড়ে তোলেন  অসহায় শিশুদের উন্নত জীবন যাপনের জন্য একটি ফাউন্ডেশন। লক্ষ্য ছিলো জীবনে একদিন সফল হবেনই। আর সফল হলেই সেই  অসহায়দের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারবেন। ব্যক্তি জীবনে স্বপ্নও দেখেন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়বেন তিনি।

শাহনাজ যখন পাইলটের আবেদন করেছিলেন, তখন পাকিস্তানের চাকরি আবেদন পত্রের নিচেই লেখা থাকতো, ‘নারীদের জন্য আবেদন প্রযোজ্য নয়’। সেদিনের সেই প্রতিকূলতা কাটিয়ে শাহনাজ আজকের দিনে  শুধু পাকিস্তানেই নয়, পুরো বিশ্বের একজন অনুকরণীয় নারী।

সময়টা ২০১২ সাল। স্বপ্ন পূরণের মাহেন্দ্রক্ষণ। বিশ্বের প্রথম মুসলিম নারী ক্যাপ্টেন পাইলট। ওড়ে বেড়াবে আকাশে। সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, পাকিস্তান এয়ারলাইন্সে নিজের  চ্যালেঞ্জিং যাত্রার শুরু হয় শাহনাজ লাগহারির। সেই থেকে নিরবচ্ছিন্ন পথ চলা। এ পথ চলায় একের পর এক সাফল্য অর্জন করেছেন। বাঁধা এবং বিপত্তির মুখেও পড়েছেন বহুবার। ২০১৪ সালে ওয়ার্ল্ড গিনেস বুকের রেকর্ডে, ‘বিশ্বের প্রথম হিজাব পরিধান কারী মুসলিম মহিলা ক্যাপ্টেন পাইলট হিসেবে নাম উঠে আসে শাহনাজ লাগহারির।’

ঠিক এরপরেই সারাবিশ্ব জুড়ে শুরু হয় শাহনাজকে নিয়ে ব্যাপক তোলপাড়। অদম্য এ নারী পরিপূর্ণ ইসলামি অনুশাসন মেনে, তার দায়িত্ব পালন করছেন নিখুঁতভাবে।

আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম /আরআর

 

 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ