ইশতিয়াক সিদ্দিকী
হাটহাজারী প্রতিনিধি
মিশরের সাবেক নিৰ্বাচিত প্ৰেসিডেন্ট ডক্টর হাফেজ মুহাম্মদ মুরসীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্ৰকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে প্ৰেরিত এক শোক বাৰ্তায় আল্লামা বাবুনগরী বলেন, মুহাম্মাদ মুরসী একজন হাফেজে কুরআন প্ৰেসিডেন্ট ছিলেন,কুরআন হাদীস সম্পৰ্কে ছিল তার যথেষ্ট জ্ঞান এবং তিনি ওলামায়ে কেরামকে ইজ্জত সম্মান করতেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ছিলেন খুব গুরুত্ববান। এমন খোদাভীরু একজন প্ৰেসিডেন্টের ইন্তেকালে আমি গভীরভাবে শোকাহত।
আল্লামা বাবুনগরী আরও বলেন, মিশরের সৰ্বস্তরের জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত মুহাম্মদ মুরসী একজন প্ৰেসিডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও সাদাসিদে জীবন যাপন করতেন। উচ্চ বিলাসিতা বলতে তার মধ্যে কিছুই ছিলনা, পরিবার পরিজনসহ রাজধানী কায়রোতে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
মুহাম্মদ মুরসী শান্তিময় বিশ্ব গড়তে কুরআন সুন্নাহর সংবিধানে রাষ্ট্ৰপরিচালনা, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর হুকুমত প্ৰতিষ্ঠা এবং সন্ত্ৰাস দমনে ইসলামী জিহাদের বিশ্বাসী হকের উপর অটল অবিচল একজন আপোষহীন নেতা ছিলেন। অন্যায় অবিচার,জুলুম আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সদা তিনি সোচ্চার ছিলেন, একজন আমানতদার প্ৰেসিডেন্ট হিসেবে মুহাম্মদ মুরসী মিশরের সকল মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছিলেন।
শোক বার্তায় আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ইসলামের ইতিহাসে মিসর একটি গুরুত্বপূৰ্ণ দেশ, মিসর বিজয়ী ছিলেন রাসুল সা. এর সাহাবী হযরত আমর ইবনুল আস রাদি.। মুহাম্মদ মুরসী সাহাবায়ে কেরামের স্মৃতিধন্য সেই মিশরে আল্লাহর হুকুমত প্ৰতিষ্ঠার লক্ষে জুলুম ও তাগুতের বিরুদ্ধে আমরণ সংগ্ৰাম করেছেন, তিনি হক প্ৰতিষ্ঠায় বাতিলের অনেক জুলুম নিৰ্যাতন সহ্য করেছেন, কারা প্ৰকৌষ্ঠে মানবেতর জীবন যাপন করেছেন এবং মাজলুম অবস্থায় কারাগারেই তাকে বিনা চিকিৎসায় তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে।
মুহাম্মদ মুরসী একজন দেশপ্ৰেমিক প্ৰেসিডেন্ট ছিলেন, শত জুলুম নিৰ্যাতন সত্ত্বেও স্বদেশ ছেড়ে কোথাও যাননি তিনি, মিশরের লাখ লাখ মুসলমানের প্ৰাণের নেতা ছিলেন