মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
শিশুদের বইমুখী করতে মেলায় ইসলামি বই কিনছেন অভিভাবকরা নেপালে টানা বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধসে ৪ দিনে ২১ জনের মৃত্যু বাংলাদেশসহ ২০ দেশের ওষুধে শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়ায় আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৪  আল্লাহর নৈকট্য পেতে প্রতিদিন পড়ুন ৮ নফল নামাজ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা: ডা. জাহেদ ‘বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন এআই-সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি’ পাঠ্যবইয়ের মান যাচাইয়ে মধ্যরাতে ৬ প্রেসে শিক্ষামন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম

কুরআন হিফজ করে বিশ্বকে অবাক করে দিলেন এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।।কাউসার লাবীব।।

পবিত্র কুরআনুল কারীম মুখস্থ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষের নজর কাড়ছে একটি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ের ছবি। ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়েও পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করা মেয়েটির নাম রাওয়ান ডেক। তিনি জর্ডানের বাসিন্দা।

ভাইরাল ছবিতে দেখা যায় রাওয়ান ডেক পবিত্র কুরআন হাতে নিয়ে আছে এবং নিজের আনন্দ প্রকাশ করছে। তার অমলিন হাসির পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর শেয়ার হচ্ছে এবং এই পোস্টটিতে অসংখ্য লোক রাওয়ান ডিককে অভিনন্দন জানাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ডাউন সিনড্রোম একটি জিনগত সমস্যা। ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুরা মানসিক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভোগেন। মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রায়শই তাদের ঘর থেকে বাইরে নেওয়া হয় না বা বেশিরভাগ সমাজে অপমানের উত্স হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

ডাউন সিনড্রোম (ইংরেজি: Down syndrome)( সংক্ষেপে DS বা DNS), এটা ট্রাইসোমি ২১ নামেও পরিচিত। এটি একটি জেনেটিক রোগ যেখানে ২১ নং ক্রোমোজোমে আরেকটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম বিদ্যমান। এই রোগে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও বুদ্ধিমত্তা স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকে। ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক তরুণের গড় আইকিউ (IQ) ৫০ যা ৮-৯ বছরের সুস্থ শিশুর সমান।

আক্রান্ত শিশুর পিতামাতা জেনেটিকভাবে স্বাভাবিক থাকে। অতিরিক্ত ক্রোমোজোমের ঘটনা দৈবক্রমে ঘটে থাকে এরকম সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা ২০ বছর বয়সী মায়েদের ক্ষেত্রে ০.১% এরও কম এবং ৪৫ বছর বয়সী মায়েদের ক্ষেত্রে তা ৩% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এই সম্ভাবনার উপর প্রভাব ফেলতে পারে এরকম আচরণগত কার্যক্রম বা পরিবেশগত বিষয়াবলী সম্পর্কে জানা যায় নি। বাচ্চা গর্ভে থাকা অবস্থায় স্ক্রিনিং পরীক্ষার মাধ্যমে অথবা জন্মের পর সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও জেনেটিক পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ শনাক্ত করা যায়। গর্ভাবস্থায় ভ্রুণটি ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হলে গর্ভপাতের পরামর্শ দেয়া হয়। ডাউন সিনড্রোমের রোগীকে সারাজীবন কিছু রোগের স্ক্রিনিং পরীক্ষা করাতে হয়।

এই রোগের কোনো প্রতিকার নেই। শিক্ষা, যথাযথ যত্ন ও ভালোবাসা রোগীর জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। কিছু কিছু ডাউন সিনড্রোমের শিশুকে স্বাভাবিক বিদ্যালয়ের শ্রেনীকক্ষে শিক্ষা দেওয়া গেলেও অন্যের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা দিতে হয়। কেউ কেউ মাধ্যমিক বিদ্যালয় শেষ করতে পারে, খুব অল্পসংখ্যক উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত যেতে পারে। উন্নত বিশ্বে এই রোগীরা ৫০-৬০ বছর পর্যন্ত বাঁচে।

ক্রোমোজোম সংক্রান্ত রোগের মধ্যে ডাউন সিনড্রোম প্রথম সারির একটি রোগ। প্রতিবছর জন্মগ্রহণকারী ১০০০ হাজার শিশুর মধ্যে ১ জন ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্মায় ২০১৩ সালে ডাউন সিনড্রোমের রোগী ছিল প্রায় ৮.৫ মিলিয়ন এবং মৃত্যুবরণ করে ২৭০০০ জন যেখানে ১৯৯০ সালে মারা গিয়েছিলো ৪৩০০০ জন। জন ল্যাংডন ডাউন (John Langdon Down) নামে একজন ব্রিটিশ ডাক্তার ১৮৬৬ সালে প্রথমবার এই রোগের পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা দেন তাই তার নামে এই রোগের নামকরণ করা হয়। ১৮৩৮ সালে Jean-Étienne Dominique Esquirol ও ১৮৪৪ সালে Édouard Séguin এই রোগ সম্পর্কে অল্পবিস্তর বর্ণনা করেন। Jérôme Lejeune নামে ফ্রান্সের গবেষক ১৯৫৯ সালে আবিষ্কার করেন যে ২১ নং ক্রোমোজোমে দুটির স্থলে তিনটি ক্রোমোজোম বিদ্যমান।

-কেএল


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ