সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের চলে যাওয়ার ৫২ বছর আজ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর)। ১৯৭৪ সালের এই দিনে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এই কবি।

ফররুখ আহমদ আধুনিক বাংলা কবিতায় ইসলামি ভাবধারার অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি। তাঁর কবিতায় মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের আকাঙ্ক্ষা, ঐতিহ্যচেতনা, মানবতা ও সাম্যের বার্তা উঠে এসেছে। ইসলামী ভাবধারায় সমৃদ্ধ হলেও কবিতার শব্দচয়ন, ছন্দ ও প্রকরণে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দিয়েছেন। রোমান্টিকতা থেকে আধুনিকতায় উত্তরণের ধারায় তাঁর সৃষ্টিশীলতা বাংলা কবিতায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।

কবিতায় তিনি শোষণ, অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরশাসনবিরোধী গণআন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর অবস্থান ছিল স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের বিভেদ পেরিয়ে মানবতা ও সাম্যের জয়গান গেয়েছেন তিনি।

১৯১৮ সালের ১০ জুন তৎকালীন যশোর জেলার অন্তর্গত মাগুরার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফররুখ আহমদ। তাঁর বাবা সৈয়দ হাতেম আলী এবং মা বেগম রওশন আখতার। ১৯৩৭ সালে খুলনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৩৯ সালে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন তিনি। পরে স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও পরীক্ষা না দিয়েই কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।

১৯৪৫ সালে মাসিক ‘মোহাম্মাদী’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফররুখ আহমদ। তবে তাঁর কর্মজীবনের বড় অংশ কেটেছে ঢাকা বেতারে। ১৯৪২ সালের নভেম্বরে খালাতো বোন সৈয়দা তৈয়বা খাতুন লিলির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।

কবিতা, ছড়া, নাট্যকাব্যসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রেখেছেন ফররুখ আহমদ। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘সাত সাগরের মাঝি’ (১৯৪৪), ‘সিরাজাম মুনিরা’ (১৯৫২), ‘নৌফেল ও হাতেম’ (১৯৬১) এবং ‘হাতেমতায়ী’ (১৯৬৬)। শিশু-কিশোরদের জন্যও তিনি লিখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ রচনার মধ্যে রয়েছে ‘পাখির বাসা’ (১৯৬৫), ‘হরফের ছড়া’ (১৯৭০) ও ‘ছড়ার আসর’ (১৯৭০)।

সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬০), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’ (১৯৬১), আদমজী পুরস্কার (১৯৬৬) ও ইউনেসকো পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন। মৃত্যুর পর তাঁকে একুশে পদক (১৯৭৭) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে (১৯৮০) ভূষিত করা হয়।

বাংলা কবিতায় স্বতন্ত্র কাব্যভাষা, মুসলিম ঐতিহ্যচেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে ফররুখ আহমদ আজও স্মরণীয়। তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সমৃদ্ধ ভান্ডারে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়ে রয়েছে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ