রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
রাজধানীর যানজট নিরসনে ৪ টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে মুয়াজ্জিনদের দক্ষতা উন্নয়নে দ্বিতীয় দফায় আস-সুন্নাহর ১০ দিনের প্রশিক্ষণ প্যারিসে গ্যাস বিস্ফোরণে প্রাণ গেল বাংলাদেশি শিশুর   ৪৩৪১ হাজিকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে সরকার একজন লেখকের চিন্তার বস্তুনিষ্ঠতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সততা বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে নেপাল গেলেন আমিরে মজলিস কক্সবাজারে ১৯৩৮ আইফোনসহ ৬ চীনা নাগরিক আটক পুকুরে ডুবে একই পরিবারের প্রাণ গেল ৩ জনের  মুফতী জুবাইর আহমাদের ‘ইসলামের বিশুদ্ধ আকীদা ও বিদআতের অসারতা’ বাজারে ‘কাফের-মুরতাদ ফতোয়া অত্যন্ত স্পর্শকাতর, সতর্কতা কাম্য’

কওমি মাদরাসার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনাযোগ্য

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ইফতেখার জামিল

বাদশা আলমগীরের পৃ ষ্ঠপোষকতা না পেলে কি কখনো ফতোয়ায়ে আলমগীরীর মতো বিখ্যাত সংকলন আলোর মুখ দেখতো? দেখতো না। শুধু ফতোয়ায়ে আলমগীরীই নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় হানাফি ফিকাহের বিকাশ ঘটেছে প্রধানত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাকে কেন্দ্র করে।

গবেষণা করতে গিয়ে আমি দেখেছিলাম, ভারতবর্ষে মুসলিম যুগে রচিত ফিকাহ বিষয়ক প্রায় প্রতিটা সংকলন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছিল। ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়ার নাম তাতারখানিয়া কেন, গেস করতে পারেন?

গাজালি নিজামুল মুলকের পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে ‘ইমাম গাজালি’তে পরিণত হতে পারতেন না। পাশাপাশি, মনে রাখা ভালো, নিজামুল মুলক নিজামিয়া মাদরাসার মাধ্যমে মুসলিম স্কলারশিপকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান—নিজামিয়ার পরবর্তী পুরুষরাই ক্রুসেড যুদ্ধে নেতৃত্ব দান করেন, ওসমানি খেলাফতের বুদ্ধিবৃত্তিক পাটাতন তৈরি করে দিয়ে যান। মুসলিম যুগের মন্ত্রী ছিলেন হাজার হাজার—তবু আমরা কেন এখনো ওযীর/মন্ত্রী বললে কেবল নিজামুল মুলকের কথাই ভাবি? 

ইয়েস—সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা গ্রহণ করার ঝুঁকি মোটেই কম নয়—রাজাবাদশারা পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি হস্তক্ষেপ করতেও ভালোবাসেন। মোগলদের পতনের প্রক্ষিতে ফারাঙ্গিমহল প্রায় বন্ধ হতে বসে, ব্রিটিশদের সাহায্য নিতে বাধ্য হয়। ঠিক এ কারণেই দেওবন্দ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। তবে আমাদেরকে কেন মুসলিম যুগকেও অমুসলিম যুগের মত কল্পনা করে নিতে হবে?

দেখেন—কেউ ডিরেক্টলি সরকারি টাকায় কওমি মাদরাসা চালানোর কথা বলবে না—তবে, রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ নিয়ে আপনারা একটা কল্যাণ ফান্ড বানাতে পারেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে/শেষ বয়সে গরীব মাদরাসা শিক্ষকরা পেনশনের আবেদন করতে পারবেন। অথবা একটা হাসপাতাল বানাতে পারেন—একদল চিকিৎসক মাদরাসায় মাদরাসায় যাবেন, ছাত্রদের চেকআপ করবেন, সুস্বাস্থ নিশ্চিত করবেন।

কওমি মাদরাসার সাথে রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের প্রশ্নকে নতুন করে বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।

লেখক: গবেষক, চিন্তক ও অ্যাকটিভিস্ট

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ