সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ।। ১৬ চৈত্র ১৪৩২ ।। ১১ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
ময়মনসিংহে ১২ দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৬৬ সংসদে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন নিয়ে আলোচনা মঙ্গলবার মাকতাবাতুল ফাতাহর আয়োজনে বৃত্তি প্রদান ও মতবিনিময় সভা কাল জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাব ভালো নেই শহীদ মুগ্ধর বাবা, দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন স্নিগ্ধ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের ১১ নির্দেশনা নোয়াখালীতে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, সংস্কারের জন্য এসেছি: নাহিদ ইসলাম শিক্ষাখাত ইবাদতখানা, শিক্ষাদান সদকায়ে জারিয়া: শিক্ষামন্ত্রী 'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনের ব্যাখ্যা না দিয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দিকে নজর দেওয়া দরকার'

যে ঘরের শিশুদের গ্রাস করে না স্মার্টফোনের অভিশাপ


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ফাইল ছবি

|| মাওলানা মামুনুল হক ||

তাসনিম আর রানিম। দুরন্ত মায়াবি দুটি শিশু। সারাদিন এ ঘর থেকে ও ঘর ঘুরঘুর করে। খেলার সময় খেলে আর কল কল হাসিতে মুক্তো ঝরায়। ছবির ঘরটি তাদের খেলার ঘর। 

মদিনা মুনাওয়ারার পবিত্র পরিবশে বেড়ে উঠছে শিশু দুটি। বাবা-মায়ের চোখের শীতলতা আর হৃদয়ের প্রশান্তি তারা। ডিজিটাল যুগের প্রাণঘাতী ডিজিটাল স্ক্রিনের বিষাক্ত আলোকছটা থেকে মুক্ত তাদের জীবন। সেই পুরনো দিনের শিশুদের মত হাড়ি-পাতিল আর ঘর-দোর নিয়ে খেলাধুলাতেই হয়ে যায় তাদের আনন্দ বিনোদন। কেননা তারা এমন এক ঘরে বেড়ে উঠছে যেখানে স্মার্টফোন নামক ধ্বংসাত্মক বিষাক্ত ডিভাইস অনুমোদিত নয়।

পবিত্র মদিনার সফরে এবার এই ঘরেই কিছু সময় আতিথেয়তা গ্রহণের সুযোগ হয়েছে আমাদের। প্রবাসী পরিবারের আর দশটি শিশুর মতো তাসনিম আর রানিমও খেলার সাথীর অভাব অনুভব করে তীব্রভাবে। মদিনা শরিফের জিয়ারতে আগত স্বদেশী মেহমানগণ তাদের বাড়িতে অতিথি হলে শিশু দুটির সরল অনুযোগ থাকে বাবা-মায়ের কাছে, সবাই শুধু বড়রা আসে কেন? বাবুদেরকে নিয়ে আসতে পারে না? 

ক্ষণিকের অবস্থানে মায়া জন্মে যায় এই ঘরটির প্রতি। কথায় কথায় ঘরের কর্তা জানায়, বিয়ের সময় তার শ্বশুরের একটিই শর্ত ছিল। তার কন্যাকে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। 
তাই এই ঘরে সোশ্যাল মিডিয়া নামক সামাজবিধ্বংসী কোনো অ্যাপ ব্যবহার হয় না। আর দশটা ঘরের মতো এই ঘরের শিশুরা মোবাইলের বিষাক্ত দংশনেও নীল হয় না। তারা প্রাকৃত্রিক এনালগ যুগের খেলাধুলা করেই বেড়ে উঠছে। 

আজকাল অনেক বাবা-মাকেই অভিযোগ করতে শোনা যায়, শিশুদেরকে মোবাইলের নাগালের বাইরে রাখা সম্ভব না। ঘরে বড়রা যদি সব সময় মোবাইল ব্যবহার করে। ছবি ভিডিও দেখতে থাকে। গেমস খেলতে থাকে। সেই ঘরের শিশুরা মোবাইলে আসক্ত হবেই। এর দায় কি নিষ্পাপ সরল শিশুদের? নাকি এই বিষাক্ত ডিভাইস ঘরে প্রবেশের জন্য দায়ী অভিভাবকদের? 

শ্রদ্ধা জানাই সেই পিতাকে যিনি বিয়ের সময় তার হবু জামাতাকে এমন চমৎকার আদর্শ নির্দেশনা দিতে পারেন! সে ঘরের শিশুরা অন্য দশটি ঘরের শিশুদের চেয়ে সুন্দরভাবে বেড়ে উঠবে এতে কোনো সন্দেহ নাই!

লেখক: আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ