সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ।। ১৫ চৈত্র ১৪৩২ ।। ১১ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
সংসদে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন নিয়ে আলোচনা মঙ্গলবার মাকতাবাতুল ফাতাহর আয়োজনে বৃত্তি প্রদান ও মতবিনিময় সভা কাল জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাব ভালো নেই শহীদ মুগ্ধর বাবা, দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন স্নিগ্ধ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের ১১ নির্দেশনা নোয়াখালীতে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, সংস্কারের জন্য এসেছি: নাহিদ ইসলাম শিক্ষাখাত ইবাদতখানা, শিক্ষাদান সদকায়ে জারিয়া: শিক্ষামন্ত্রী 'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনের ব্যাখ্যা না দিয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দিকে নজর দেওয়া দরকার' হাজিরা দিতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী

রাজনীতিতে সহনশীলতার অভাব এক ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় ঝুঁকি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী

ভিন্ন দল মানেই মতের ভিন্নতা—এটাই রাজনৈতিক বাস্তবতা। তবে এই ভিন্নতা যদি বিদ্বেষে রূপ নেয়, তাহলে তা শুধু নীতিহীনতা নয়—এটা জাতীয় অস্থিরতার আগুনে ঘি ঢালার শামিল। মতের পার্থক্যকে সহনশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করার মানসিকতা না থাকলে, রাজনীতি রূপ নেয় ব্যক্তিগত দম্ভ আর দলীয় উগ্রতার হিংস্র খেলায়।

উদারতা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য—এই গুণগুলো আজ দুর্লভ। অথচ এগুলোর মাধ্যমেই গড়ে ওঠে একটি সত্যিকারের মানবিক ও সুস্থ রাজনীতি। কিন্তু যখন সহনশীলতা বিলুপ্ত হয়, তখন রাজনীতি হয়ে ওঠে ঘৃণার কারখানা, আর প্রতিহিংসা ছড়ায় আগুনের মতো—সবকিছু পুড়িয়ে দেয়।

রাজনীতির সৌন্দর্য নিহিত থাকে যুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত বিতর্কে, তথ্যনির্ভর আলোচনায় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাঝে। কিন্তু আজ আমরা সেই সৌন্দর্যকে হত্যা করছি—ইচ্ছাকৃতভাবে, দায়িত্বহীনভাবে।

সহনশীল মনোভাব রাজনীতিকে করে গণমুখী, আর জাতিকে করে ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ এক শক্তি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা এখন এমন এক সময় অতিক্রম করছি, যেখানে ভিন্নমত মানেই শত্রু—সমালোচনা মানেই বিদ্বেষ। এই মানসিকতা ধ্বংস করছে আমাদের শিকড়।

রাজনীতি যদি কেবল ব্যক্তি ও দলীয় চিন্তায় সীমাবদ্ধ হয়, তবে তা জাতির চালিকাশক্তি নয়—বরং জাতির ভবিষ্যতের বিপর্যয়ের রূপরেখা। কার্যকর নেতৃত্ব, সুদূরপ্রসারী নীতিমালা ও জনকল্যাণমুখী দর্শন ছাড়া রাজনীতি শুধু ক্ষমতার অপব্যবহারের মঞ্চে পরিণত হয়।

তাই রাজনীতিতে সহনশীলতার অভাব শুধু একটি চারিত্রিক দুর্বলতা নয়—এটি এক ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় ঝুঁকি।

তবে, সহনশীলতা মানে ‘চুপ করে থাকা’ নয়; বরং সহনশীলতা হলো সাহসের পরিচয়, বিরুদ্ধ মতকে যৌক্তিক জায়গা থেকে গ্রহণ করা, গঠনমূলক আলোচনায় প্রবেশ করা।

যদি সহনশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারি, তাহলে সংলাপ হবে অচল, কর্মসূচি হবে সহিংস, আর জনগণের হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়বে আতঙ্ক, অনাস্থা ও ঘৃণা। এই পথের শেষ গন্তব্য শুধুই বিপর্যয়।

একজন পরিপক্ব রাজনীতিকের দায়িত্ব হলো—বিরুদ্ধ মত শুনে তা মোকাবিলা করা যুক্তির মাধ্যমে; প্রতিহিংসার মাধ্যমে নয়। যদি মতের পার্থক্যকে আমরা দ্বন্দ্বে না গড়িয়ে সংলাপে রূপ দিতে পারি—তবে তবেই আমরা আসল শান্তির ছায়ায় আসতে পারব।

সত্যিকারের নেতৃত্ব মানে জনপ্রিয়তা নয়—বরং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস। নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম ও সহনশীল মনোভাব ছাড়া রাজনীতি শুধু এক থিয়েটার, যেখানে অভিনয় হয়, বাস্তবতা বলতে কিছুই থাকে না।

লেখক: মহাসচিব, ইসলামী ঐক্যজোট

এমএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ