জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান
ইমানি আবহ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ইসরাআ ও মেরাজের স্মরণে বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করেছে আল-আজহার শরিফ। শুক্রবার সন্ধ্যায় মাগরিব নামাজের পর কায়রোর ঐতিহাসিক আল-আজহার মসজিদে এ আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন আল-আজহার শরিফের শীর্ষ আলেম, মিসর সরকারের মন্ত্রী, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটি মিসরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও কোরআন কারিম রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আল-আজহার শরিফের উপ-মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আদ-দুওয়াইনি, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ড. উসামা আল-আজহারি, মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি অধ্যাপক ড. নাজির আয়াদ, কায়রোর গভর্নর ড. ইব্রাহিম সাবির, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালামা দাউদ, ইসলামিক রিসার্চ একাডেমির মহাসচিব অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আল-জুন্দি, আশরাফ বংশধরদের প্রধান মাহমুদ আশ-শরিফ এবং সুফি তরিকার সর্বোচ্চ পরিষদের প্রধান ড. আবদুল হাদি আল-কাসাবিসহ বহু আলেম, চিন্তাবিদ ও অতিথি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইসলামিক রিসার্চ একাডেমির সদস্য ও আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইব্রাহিম আল-হাদহাদ বলেন, ইসরাআ ও মেরাজ এমন এক মহান স্মৃতি, যা শুধু মানুষের হৃদয়েই নয়—আসমান ও জমিনকেও আনন্দিত করে। তিনি বলেন, এই অলৌকিক ঘটনা ছিল আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ সা. এর জন্য বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার ঘোষণা এবং নবীজির ওপর নেমে আসা দুঃখ-কষ্টের পর তাঁর হৃদয়কে সান্ত্বনা ও দৃঢ়তা দানের এক অনন্য নিদর্শন।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি, সাহায্য ও পরিকল্পনার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার শিক্ষা দেয়। পাশাপাশি ইসরাআ ও মেরাজের সঙ্গে মসজিদুল আকসার গভীর সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি দোয়া করেন—আল্লাহ যেন মসজিদুল আকসাকে আবার স্বাধীনভাবে মুসলমানদের কোলে ফিরিয়ে দেন এবং সমস্ত ইসলামি পবিত্র স্থানকে হেফাজত করেন।
অন্যদিকে, আল-আজহার শরিফের কুরআন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু আল-ইয়াজিদ সালামা বলেন, ইসরাআ ও মেরাজ মুসলমানদের জীবনে এক মহান ইমানি অধ্যায়, যার মাধ্যমে বিশ্বাস, ধৈর্য ও অবিচলতার শিক্ষা নতুন করে হৃদয়ে জাগ্রত হয়। তিনি বলেন, কোরআন ও সহিহ হাদিসের স্পষ্ট প্রমাণ অনুযায়ী ইসরাআ ও মেরাজ রূহ ও দেহ—উভয়ভাবেই সংঘটিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে উম্মাহর মধ্যে সুস্পষ্ট ঐকমত্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই আসমানি সফর ছিল রাসূলুল্লাহ সা. এর রিসালাতের সার্বজনীনতা ও শেষত্বের এক জীবন্ত প্রমাণ। মসজিদুল আকসায় সকল নবীকে একত্রিত করে তাঁদের ইমাম হিসেবে রাসূল সা. এর নামাজ আদায় ছিল নবুয়তের ঐক্য ও ধারাবাহিকতার এক অনুপম দৃশ্য। এত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও রাসূল সা. এর বিনয় ছিল অনন্য—তিনি জিবরাইল আ. এর নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত ইমামতিতে অগ্রসর হননি।
উল্লেখ্য, আল-আজহার শরিফ নিয়মিতভাবে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবস পালন করে আসছে, যার মাধ্যমে তারা ইসলামের সঠিক শিক্ষা প্রচার, ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মুসলিম সমাজকে তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত রাখতে ভূমিকা রেখে চলেছে।
লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর