শরিফ হাসানাত
জুলাই,
তোমাকে আমি কোনো মাস বলে ডাকি না আর।
তুমি এখন ভাঙা স্যান্ডেলের পাশে পড়ে থাকা এক জোড়া চশমা,
একটি ছেঁড়া ব্যানারের ভাঁজে আটকে থাকা দুপুর,
কিংবা এমন একটি নাম
যে নাম উচ্চারণ করলেই
মায়ের বুকের ভেতর হঠাৎ পাখিরা উড়ে যায়।
শহর সেদিন খুব স্বাভাবিক থাকার অভিনয় করছিল।
চায়ের দোকানে কেতলি ফুটছিল,
রিকশার ঘণ্টা বাজছিল,
কেউ একজন বাজার থেকে ধনেপাতা কিনে ফিরছিল।
শুধু বাতাস জানত,
আজ তার কাঁধে অনেকগুলো বেদনাবিধুর চিৎকার বয়ে নিতে হবে।
আমি দেখেছি
রাস্তা কখনো কখনো মানুষের চেয়ে বেশি কাঁদে।
অ্যাসফল্টের বুকেও দাগ পড়ে,
যদিও ইতিহাস তাকে কালো রঙে ঢেকে দিতে চায়।
যারা বেরিয়েছিল,
তারা সবাই বীর হতে বেরোয়নি।
কেউ ন্যায়ের কথা বলতে,
কেউ বাক স্বাধীনতা ফিরে পেতে,
কেউ শুধু বিশ্বাস করেছিল
ভয়কে যদি একদিন নাম ধরে ডাকা যায়,
তাহলে ভয়ও একদিন মানুষের মতো লজ্জা পাবে।
সন্ধ্যা নেমেছিল ধীরে।
আকাশ তার লালচে রঙ গুটিয়ে নিতে চাইছিল,
ক্লান্ত পৃথিবী বলেছিল,
একটু দাঁড়াও হে যুবক!
এখনও কিছু স্বপ্ন ঘরে ফেরেনি।
যারা আর ফিরল না,
তাদের নামে কোনো বিশাল উপমা লিখতে চাই না।
আমি শুধু জানি,
একটি খালি চেয়ারও অনেক সময়
একটি রাষ্ট্রের বিবেকের চেয়ে ভারী হয়ে ওঠে।
আজও যখন জুলাই আসে,
পাঞ্জেরীর পাতা নয়,
মানুষের মুখে মুখে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে
কেউ নীরবতা গোনে,
কেউ অনুপস্থিতির সংখ্যা,
কেউ একটি পুরোনো ছবি স্পর্শ করে ভাবে
দেশ কি সত্যিই তার সন্তানদের মনে রাখে?
জুলাই,
তুমি যদি আবার আসো,
রক্তের স্মৃতি নিয়ে এসো না।
কৃষকের সফেদ ভোর হয়ে এসো
যেখানে প্রতিবাদের প্রয়োজন থাকবে না,
প্রাণহানির রক্তভেজা গতর দেখব না
মতের ভিন্নতা থাকবে।
মানুষের মর্যাদা অটুট থাকবে;
যেখানে ইতিহাস লেখা হবে
কারও কান্না মুছে দিয়ে নয়,
প্রত্যেক মানুষের সত্য শুনে শুনে।
তখন আমরা হয়তো বলব
একটি মাস শেষ হয়নি,
সে ধীরে ধীরে
একটি জাতির বিবেক হয়ে উঠেছে।
এসএইচ/