মাত্র আট মাস তিন দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন মাজিদ মুখস্থ করে এলাকাজুড়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে ১০ বছর বয়সী শিশু আল-আমীন। তার এই অসাধারণ কৃতিত্বে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
আল-আমীন হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বিরবিরি গ্রামের ওমানপ্রবাসী নেছার উদ্দিনের ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে সবার ছোট। বর্তমানে সে হাতিয়ার সেন্টার বাজারে অবস্থিত মারকাযুল হুফফাজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাফেজ আল-আমীনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম জানান, আল-আমীন ২০২৫ সালে মাদরাসার নাজেরা বিভাগে ভর্তি হয়। পরবর্তীতে হিফজ বিভাগে ভর্তি হয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে মাত্র আট মাস তিন দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ কোরআন শরিফ মুখস্থ করতে সক্ষম হয়।
তিনি বলেন, এত অল্প সময়ে একজন শিক্ষার্থীর পুরো কোরআন হিফজ সম্পন্ন করা সত্যিই বিস্ময়কর। আমরা তার জন্য দোয়া করি, আল্লাহ তাআলা যেন তাকে দ্বীনি জ্ঞানে সমৃদ্ধ করেন এবং একজন যোগ্য হাফেজ ও আলেম হিসেবে কবুল করেন।
মাদরাসার শিক্ষকরা জানান, সাধারণত একজন শিক্ষার্থীর পূর্ণ কোরআন হিফজ করতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। সে তুলনায় আল-আমীনের এই অর্জন অত্যন্ত বিরল এবং প্রশংসনীয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন আরাফাত পারভেজ বলেন, আল-আমীন ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। তার এই সাফল্য শুধু পরিবার নয়, পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি ফজলুর রহমান (সারওয়ার) কাসেমী, সেন্টার বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, মাওলানা হাফেজ নিজাম উদ্দিনসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এছাড়া আল-আমীনের মা, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আল-আমীনের মা-বাবা ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং দ্বীনের খেদমতে তার সফলতা কামনায় সবার কাছে দোয়া চান।
জেডএম/
