নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আবারও এসির সংযোগ তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে আটটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে আসা হাজারো মুসল্লিকে তীব্র গরম ও অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হয়। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মসজিদের তিন নিরাপত্তাকর্মী ও দুই খাদেমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে কোনো এক সময়ে মসজিদের এসির সংযোগ তার চুরি হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মী ওবায়দুর রহমান, আলী ও মহসিন এবং প্রধান খাদেম নাসিরুল্লাহ ও খাদেম বিল্লালকে শোকজ করা হয়েছে।
তবে চুরির ঘটনায় ছাদের তালা ভাঙা বা কাটার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। ফলে ছাদের চাবি ব্যবহার করে কেউ সেখানে প্রবেশ করেছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চুরির সঙ্গে কারা জড়িত এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কী ধরনের ঘাটতি ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে ২০২৪ সালেও একই মসজিদ থেকে একই কায়দায় একসঙ্গে ৪০টি এসির সংযোগ তার চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময়ও মসজিদের ওই অংশের চাবি সীমিতসংখ্যক ব্যক্তির কাছে ছিল। ওই চুরির পর এসির সংযোগ পুনঃস্থাপনে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। এবার চুরি যাওয়া তারের সংযোগ মেরামতে প্রায় পৌনে ৩ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র।
বারবার একই ধরনের চুরির ঘটনায় বায়তুল মোকাররমের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মুসল্লি ও সংশ্লিষ্টদের একাংশের অভিযোগ, মসজিদ পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তদারকির ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে মসজিদের পরিচালনা ও পরিচ্ছন্নতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আইও/