সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১২ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি জরুরি অবস্থা জারির কড়া সমালোচনা মাওলানা ফজলুর রহমানের মাহবুবা হাকিম এমপির বরাদ্দ ক্রীড়া সামগ্রী কিশোরদের মধ্যে বিতরণ নির্বাচন কমিশনার আইন নিয়ে আমাদের আশঙ্কা সত্যি হচ্ছে: ওয়াইসি ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে মাদরাসাগুলোকে বোর্ডের নির্দেশ রিয়াদে হামলায় নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের শোক-প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় হিরার সাফল্যে বিএনপির অভিনন্দন ‘পবিত্র ভূমিতে হামলা মুসলিম উম্মাহর জন্য গভীর উদ্বেগের’ আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন পরিদর্শনে জামিয়া ইমদাদিয়ার শায়খুল হাদিস চাঁদ দেখা যায়নি, জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু মঙ্গলবার

প্রেসিডেন্ট বানানোয় বিএনপির ধরা খাওয়া কি এবার শেষ হবে?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গত চার দশক ধরে এক অদ্ভুত ভুলের চক্করে পড়ছে বিএনপি? মেজর হাফিজ, মির্জা ফখরুল ইসলাম বা অভাবনীয় কেউ একজন কি পারবেন বিএনপির ‘প্রেসিডেন্ট বানিয়ে ধরা খাওয়ার ভাগ্য’ বদলাতে? অতীত ইতিহাস বলছে, বিএনপির প্রেসিডেন্ট বাছাই  বরাবরই এক ট্র্যাজিক গল্প।

১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএনপি এ পর্যন্ত চারজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেছে, যার মধ্যে ১৯৯১ সালের আব্দুর রহমান বিশ্বাস ছাড়া বাকি তিনজনই শেষ পর্যন্ত দলের জন্য চরম বিপর্যয় বা হতাশা বয়ে এনেছেন। তিনিও এমনটি পেরেছিলেন দুই জেনারেলের হিম্মত পেয়ে। জেনারেল সুবিদ আলী ভুঁইয়া বঙ্গভবনে  আর জেনারেল ইমামুজ্জামান সাভার ক্যান্টনমেন্ট সামাল না দিলে আবদুর রহমান বিশ্বাস কিছুই করতে পারতেন না।

বারবার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বা নিরাপদ মনে করা মানুষটিই নিজের গাটস কিংবা হেডমের  অভাবে দলটির জন্য বড় বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে এনেছেন। শুরু হয়েছিল ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর। অত্যন্ত আস্থাভাজন বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে রাষ্ট্রপতি করা হলেও তাঁরই সরকারের ভেতরের একাংশ হাত মেলায় তৎকালীন সেনাপ্রধান দেরাদুনি সৈনিক এরশাদের সাথে।

ফলে মাত্র চার মাসের মাথায় এক রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয় বিএনপি।

সেই ধাক্কা সামলে ২০০১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, তখন বঙ্গভবনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল দলের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে। শুরু থেকেই তিনি ছিলেন ভিনদেশী সংস্কৃতির মনচলা টাইপ আদমি।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরই দলের প্রত্যাশা মতো ৯২ ভাগ মানুষের মূল্যবোধ ও জাতির আকাঙ্ক্ষার প্রতি আনুগত্য না দেখিয়ে তিনি ‘কথিত নিরপেক্ষ’ হওয়ার প্রগলভ চেষ্টা করেন। ফলে মাত্র ৭ মাস পর নিজের দলেরই তীব্র রাজনৈতিক চাপে তাঁকে অপমানজনকভাবে পদত্যাগ করতে হয়।

সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি অপেক্ষা করছিল ২০০২ সালে। বি চৌধুরীর বিদায়ের পর বিএনপি যাকে সবচেয়ে অরাজনৈতিক, নিরীহ এবং নিরাপদ ভেবে বঙ্গভবনে পাঠিয়েছিল, সেই অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ বিএনপির বেছে নেওয়া ভুল সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপে ভীত সন্ত্রস্ত ও অসহায় হয়ে বিএনপির জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেন।

ভারতীয় আধিপত্য বিস্তারের প্রয়োজনে একদল সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা ব্যবহৃত হওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত খেসারত হিসেবে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে ধেয়ে আসে সেনা-সমর্থিত ওয়ান-ইলেভেন সরকার। বিএনপি ছিটকে পড়েপ্রায় ২০ বছরের এক দীর্ঘ ও গভীর ব্ল্যাকহোলে।

চার দশকের এই টানা ধরা খাওয়া আর ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাজেডি’ বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কঠিন ধাঁধা।

ইতিহাসের চার দশকের পুরনো সেই ভুল ভেঙে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে একজন নির্ভুল ব্যক্তিকে পাঠিয়ে বঙ্গভবনে একটি স্থিতিশীল ও বিশ্বস্ত পর্বের সূচনা করতে পারবেন কি না, তা দেখতেই এখন মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

লেখক: প্রবীণ লেখক, কলামিস্ট, চিন্তক ও রাজনীতি বিশ্লেষক

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ