রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ।। ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৮ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে পুলিশ-মাদক ব্যবসায়ীর গোলাগুলি, ৫ পুলিশসহ আহত ৮ শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে গুম-নির্যাতন মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ আজ প্রাথমিকে সংগীত-নৃত্যকলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ বাতিল চায় জমিয়ত নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২ ভাইয়ের মৃত্যু, আহত ১ আমাকে হারাতে শত শত কোটি ব্যয় করা হয়েছে: শায়খে চরমোনাই ১০ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা, নদীবন্দরে সতর্কতা ট্রাম্পের দাবি রোববার শান্তি-চুক্তি, ইরান বলছে ভিন্ন কথা আস-সুন্নাহ দাওয়াহ ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ভারতের সামাজিক সম্প্রীতি হুমকির মুখে: জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ শ্রেষ্ঠ স্বামী হিসেবে তিনি আমার কাছে অমর হয়ে থাকবেন

’কারাগারে বড় ধরণের স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা খালেদা জিয়ার’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবদুল্লাহ তামিম:  কারাগারে মাথা ঘুরে পরে যাওয়ার এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের রিপোর্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছে উল্লেখ করার পর প্রশ্ন উঠেছে, এখন কেমন আছেন বেগম জিয়া?

তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী সহ মোট চার জন খালেদা জিয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে বলেছেন, ট্রানজিন এ্যাসকেভিক এটাক হয়েছিল দেশনেত্রীর।

একাধিক আবেদনের পর শনিবার বিকালে তারা পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পান।

এফ এম সিদ্দিকী বলেন, গত ৫ জুন দুপুরে হঠাৎ করে দাঁড়ানো অবস্থা থেকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন এবং ৫/৭ মিনিট আনকনসাস ছিলেন। উনি মনেই করতে পারছেন না কি ঘটেছিলো।

তাকে তার এটেডেন্ট যে মেয়ে ছিলো তারা অনেক কষ্ট করে বসিয়েছে। এখন আমরা চেক করে যেটা দেখেছি- এটাকে বলে টিআইএ (ট্রানজিন এ্যাসকেভিক এটাক)।

একটা মাইল্ড ফর্মে স্ট্রোকের মতো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। উনি এখনো কথা যে বলেন একটু সাইল্ড স্পাড আছে। বাট সি কেন কমিউনিকেড, ভালো কথা বলতে পারছেন। মাইল্ড একটা স্ট্রোক।

মেডিসিনের অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, যেটা সবচেয়ে বিপদজনক সেটা হচ্ছে- টিআইএ কারো হয় তাহলে সেটা ইন্ডিকেট করে যে, সামনে তার একটা বড় ধরণের স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনার খুব বেশি।

আমরা এই মতামতটাসহ অন্যান্য অবজারভেশন লিখে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে দিয়ে এসেছি। আমরা মনে করি তার কতগুলো বিশেষ ধরণের পরীক্ষা করা দরকার। সেজন্য আমরা বলেছি, এসব সুবিধা রয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতালে।

উনাকে যদি খুব দ্রুত ভর্তি করানো জন্য আমরা একটা সাজেশন দিয়ে এসেছি এজ এ ফিজিশিয়ান। এতে খুব তাড়াতাড়ি একটা ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আমরা আশা করছি।

পরীক্ষাসমূহ তুলে ধরে তিনি বলেন, উনার পরীক্ষার জন্য প্রসথেসিস কম্পিটেবল এমআরআই মেসিন দরকার।

উনার ক্যারোপিড ডটলাইট স্টাডি করে ব্রেইনের সার্কুলেশন স্টাডি করা দরকার, উনার নার্ভ কনডাকশন স্টাডি করা দরকার, উনার সমস্ত মেটাবলিক প্রফাইল টাইম এন্ড টাইম করা দরকার। যেহেতু উনি এখন মাঝে মাঝে ব্যালেন্স রাখতে পারেন না।

উনি হাঁটলে একবার এদিকে আরেকবার ওদিকে মনে হচ্ছে যে উনি পড়ে যান।উনি জোর করে দাঁড়িয়ে থাকেন। পড়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তিনি ওই সময়টার কথা বলতে পারছেন না। তার একটি মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা নিয়ে চার পৃষ্ঠার একটি সুপারিশমালা কারা কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন বলে জানান অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, আমরা ম্যাডামের ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা সবকিছু পরীক্ষা করে আমরা আমাদের সমস্ত মতামত ও সমস্ত অবজারভেশন পূর্ণাঙ্গভাবে ওখানে লিখে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে দিয়ে এসেছি।

আমরা চার পৃষ্ঠার একটা মেডিক্যাল রিপোর্ট দিয়েছি যেখানে সম্পূর্ণভাবে উল্লেখ করা আছে যে, কী ঘটেছে,কী হচ্ছে এবং সামনে তার কী টিট্রমেন্ট করা উচিৎ।

আমরা আশা করে উনার এটা দেখবেন এবং নিশ্চয়ই আপনারা সাথে এটা শেয়ার করবেন, আপনারা তা জানতে পারবেন।

খালেদা জিয়াকে কেমন দেখেছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনার কথায় কিছুটা জড়তা আছে, তবে কমিউনিকেশন করতে পারছেন।

অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকীর সাথে ছিলেন নিউরো মেডিসিনের অধ্যাপক সৈয়দ ওয়াহিদুর রহমান, চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এবং কার্ডিওলজিস্ট ডা. মোহাম্মদ মামুন।

আরো পড়ুন- নির্বাচনের আগে কূটনৈতিক তৎপরতায় বিএনপি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ