মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
কওমি মাদরাসায় কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ বিষয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি: চার শিক্ষককে শোকজ বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত বিকেএম কেন্দুয়া উপজেলা শাখার ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে কাল বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ইকরা হবিগঞ্জের ফল উৎসব উদযাপিত  বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু ৫৪ ফতুল্লায় বাড়িতে গ্যাস–সংযোগ দেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ শ্রমিক বন্যা দুর্গত দেড় হাজার পরিবারে তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ‘কৃত্রিম জলাবদ্ধতা’ তৈরির সত্যতা পেলে ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী অমিত

হিজরতে মদিনা ।। আবুল হাসান আলী নদভী রহ.

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবুল হাসান আলী নদভী রহ. ।।

মদিনাকে দারুল হিজরত ও ইসলামের দাওয়াতের কেন্দ্র হিসাবে নির্বাচনের পেছনে মদিনাবাসীদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন, এছাড়া সেই সব রহস্যের কারণ ছিলো যেসব রহস্য আল্লাহ ভিন্ন আর কেউ জানে না।

একটি হেকমত এও ছিলো, মদিনার সামরিক ও ভৌগলিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর একটি সুদৃঢ় দুর্গ হিসাবে অবস্থানের দিক থেকে গুরুত্ব ছিলো। আরব উপদ্বীপের কাছাকাছি আর কোনো শহর এ ব্যাপারে তার সমকক্ষ ছিলো না।

হাররাতুল ওয়াবরা পশ্চিম দিক দিয়ে মদিনাকে হেফাজত করতো আর হাররা ওয়াকিম পূর্বদিক থেকে একে ঘিরে রেেেখছিলো। মদিনার উত্তর দিকটা ছিলো একমাত্র পথ যা আক্রমনকারী যে কোন বাহিনীর জন্য ছিলো একেবারে খোলা।

মদিনার অপরদিকে খেজুরের ঘন বাগান অথবা ক্ষেত দিয়ে ছিলো। যদি কোন আক্রমনকারী ফৌজকে একে অতিক্রম করতে হতো, তবে তার রাস্তায় এমন সঙ্কীর্ন পথ ও অলিগলি পড়ত যা কাতারবন্দি ও ফৌজী শৃঙ্খলার সাথে পার হওয়া সহজসাধ্য ছিলো না এবং মামুিল ফৌজী চৌকিও এ অভিযানে বাধা সৃষ্টি করার জন্য ছিলো যথেষ্ট।

ইবনে ইসহাক বলেন, মদিনার একদিকের অংশ বা রাস্তা ছিলো খোলা, বাকি সকল দিক বসতি ও খেজুর বাগানের কারণে পরস্পরের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলো। কোন দুশমন এর ভেতর দিয়ে এগুতে পারত না।

মদিনার এই দু’টি গোত্র, আওস ও খায়রাজ নামে বিখ্যাত ছিলো- জাতীয় মর্যাদাবোধ, আত্মসম্মান, অশ্বারোহন ও পুরুষোচিত শৌর্য-বীর্যের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ছিলো। তারা কারো সামনে কখনো মাথা নত করেনি। কোনো বড় গোত্র কিংবা হুকুমতকে তারা কখনো ট্যাক্স ও জরিমানা দেয় নি।

এছাড়া বনী আদী ইবনে নাজ্জার বনী হাশিমের ছিলো মাতৃকুল। হাশিম তাদের বংশের এক মেয়ে সালমা বিনতে আমেরকে বিয়ে করেছিলেন। হাশিমের এক ছেলে আবদুল-মুত্তালিবের এই ঘরে জন্ম নেয়।

হাশিম তাকে তার মায়ের নিকট রেখে আসেন। যখন তিনি বড় হলেন এবং সাবালকত্বে পৌঁছলেন, তখন তাকে তার চাচা মক্কায় নিয়ে আসেন। এ সকল কারণের জন্য মদিনা রসুল সা. ও তার সাহাবায়ে কেরামের হিজরতের জন্য সবচেয়ে উপযোগী স্থান ছিলো।

ইসলামের দাওয়াতের আবাসস্থল ও কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার জন্য এই শহর পূর্ণ হকদার ছিলো, এমন কি সে এরও হকদার ছিলো, ইসলাম পূর্ণ শক্তি ও দৃঢ়তা লাভ করুক, তার ভেতর ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা ও শক্তি পয়দা হোক এবং সে আরব উপদ্বীপকে জয় করতে পারুক এবং সে আরব উপদ্বীপকে জয় করতে পারুক এবং এরপর সেই সময়কার গোটা সভ্য জগতে আপন হেদায়াতের পতাকা ওড়াতে সক্ষম হোক।

(নবিয়ে রহমত বই থেকে মাওলানা  মনযূরুল হক-এর অনুবাদ)

আরএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ