আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: সম্প্রতি গ্রিস থেকে ১৯ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে একটি বিশেষ বিমানে করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটির সরকার।
এটা মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতিমালা। এদিকে গ্রিক সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তে আতঙ্কিত দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
অবৈধভাবে প্রবেশ করা ১৯ বাংলাদেশি নাগরিককে একটি চার্টার ফ্লাইটে গ্রিসের রাজধানী এথেন্স থেকে বাংলাদেশে সোমবার ফেরত পাঠানো হয়েছে।
গ্রিক সরকারের তথ্যমতে, ২০১৬ সালের পর বাংলাদেশে এটিই তাদের প্রথম ফেরত পাঠানোর ঘটনা। সমন্বিত পুলিশি অভিযানে ১৯ বাংলাদেশিকে আটক করে সরাসরি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
২০২১ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত মোট ১০ হাজার ৬২৩ জন তৃতীয় দেশের অবৈধ নাগরিকরা নির্বাসন, প্রত্যাবর্তন এবং স্থানান্তরের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরোপ বা তৃতীয় দেশে চলে গেছে বলে জানায় দেশটির অভিবাসন সংস্থা।
যারা পূর্বে গ্রিস পুলিশের তালিকাভুক্ত ছিলেন কিন্তু বর্তমানে দেশটিতে নেই। বিভিন্ন তথ্য ও গবেষণার মাধ্যমে পুলিশ রিপোর্টে তার বিবরণ উঠে এসেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশীও রয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮ হাজার ৩১ জন অবৈধভাবে গ্রিসে প্রবেশ করেছে।
গ্রিক অভিবাসনমন্ত্রী নোটিস মিতারাকিস উল্লেখ করেছেন যে ‘গ্রিস একটি কঠোর, কিন্তু ন্যায্য অভিবাসন নীতি প্রয়োগ করে! এবং এটি আন্তর্জাতিক সুরক্ষার অধিকারী নয় এমন ব্যক্তিদের দেশটি থেকে বিতাড়িত করে।’
তিনি আরও বলেন, ফ্রন্টেক্সের সহযোগিতায় আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন, পাঁচ বছর পর আমরা আবার বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক নির্বাসন শুরু করেছি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের অভিবাসন নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের দেশগুলোতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি আইন চূড়ান্ত করেছেন। যার আলোকে ২০২১ সালে জার্মানি, অষ্ট্রিয়া, গ্রিস ও উত্তর ইউরোপের কিছু দেশ থেকে বাংলাদেশি কিছু সংখ্যক অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠিয়েছে ইইউর সহায়তায়। তবে ইতালি, ফ্রান্স, স্পেনে এমন ঘটনা এখনো তেমন ঘটেনি। তবে ভবিষ্যতের প্রয়োগের সম্ভবনা রয়েছে। কারণ দেশগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যে একটি ফান্ড গঠন করেছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন সীমান্ত পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্তে আটকে দেয়।
যারা বিভিন্নভাবে প্রবেশ করেন এবং অবৈধভাবে বসবাস শুরু করেন, তাদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করতে ও নিজ দেশে ফিরতে পাঠানোর জন্য ফান্ড থেকে অর্থ সরবরাহ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সেই সঙ্গে যেসকল অঞ্চল বা দেশের অভিবাসন প্রত্যাশীরা ইউরোপে অনুপ্রবেশে করছে বেশি সেসব দেশগুলোর সরকারকে বিভিন্নভাবে তাদের দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। যা ইদানিং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় আবাস পাওয়া গেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপদ অভিবাসন পদক্ষেপের আলোকে, ইউনিয়ন লাগাতারভাবে বিশ্বের অনেক দেশকে তাদের দেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য কৌশলগতভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, ফিলিপাইন ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশ অন্যতম।
-এটি