বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
এবারের হজে ৬৪০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করেছে সৌদি আরব ‘বাজেটের পরিধির চেয়ে নিত্য পণ্যের দাম কমার সংবাদ চায় জনগণ’  সরকারের ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা ‘ভারতে ধর্ম গ্রহণের স্বাধীনতা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত’ ‘যোগ্য দায়িত্বশীল হতে প্রয়োজন আদর্শিক ও দক্ষতার উন্নয়ন’ আল আকসার ঐতিহাসিক নিদর্শন সরানোর অপচেষ্টা ইসরাইলের, হামাসের সতর্কবার্তা আর্থিক খাতে রাজনীতি নয়, সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান ইলমি সংকট নিরসনে মাদরাসা দায়িত্বশীলদের জন্য কিছু কথা ১৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে পুলিশের জন্য গাড়ি কিনছে সরকার দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যমন্ত্রী

 প্রচণ্ড মানসিক কষ্টে যে দোয়া পড়বেন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মানুষের জীবনে দুঃখ-কষ্ট আসা স্বাভাবিক। কিন্তু বিপদের মুহূর্তে মুমিন কার কাছে অভিযোগ করবে? কার কাছে নিজের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ প্রকাশ করবে? পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর একটি ঘটনা তুলে ধরেছেন, যা আমাদের জন্য বিরাট শিক্ষা।

সন্তান হারানোর অসহনীয় বেদনায় হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর হৃদয়ের আকুতি ও আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করার ভঙ্গি আল্লাহ তাআলার কাছে এতটাই পছন্দনীয় ছিল যে, তিনি তা কোরআনে কারিমে চিরস্থায়ী করে দিয়েছেন।


প্রচণ্ড কষ্টের সময় ইয়াকুব (আ.)-এর সেই প্রার্থনা
অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণা, হতাশা কিংবা প্রিয়জন হারানোর বেদনায় মুমিন বান্দা ইয়াকবু (আ.)-এর এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করতে পারেন:
আরবি: إِنَّمَآ أَشۡكُواْ بَثِّي وَحُزۡنِيٓ إِلَى ٱللَّهِ
উচ্চারণ: ‘ইন্নামা আশকু বাছ্‌ছি ওয়া হুযনি ইলাল্লাহ।’
অর্থ: ‘আমি আমার অসহনীয় বেদনা ও আমার দুঃখ শুধু আল্লাহর কাছেই নিবেদন করছি।’ (সুরা ইউসুফ: ৮৬)

প্রেক্ষাপট ও শিক্ষা
হজরত ইউসুফ (আ.) যখন ভাইদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন, তখন হজরত ইয়াকুব (আ.) প্রচণ্ড আঘাত পেলেন। বহুদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সন্তানের বিচ্ছেদ-বেদনা তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। ছেলেরা যখন তাকে এ নিয়ে ভর্ৎসনা করল, তখন তিনি নিজের অশান্ত মনের আকুতি জানিয়ে বলেছিলেন- قَالَ اِنَّمَاۤ اَشۡکُوۡا بَثِّیۡ وَ حُزۡنِیۡۤ اِلَی اللّٰهِ وَ اَعۡلَمُ مِنَ اللّٰهِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ
অর্থ: ‘তিনি বললেন, আমি আমার অসহনীয় বেদনা ও আমার দুঃখ শুধু আল্লাহর কাছেই নিবেদন করছি এবং আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তা জানি, যা তোমরা জান না।’ (সুরা ইউসুফ: ৮৬)

এই আয়াতে মুমিনের জন্য বড় শিক্ষা হলো- বিপদে ধৈর্য ধারণ করা এবং মানুষের কাছে অভিযোগ না করে কেবল আল্লাহর কাছেই মনের কষ্টের কথা বলা। কারণ, মানুষ সমাধান দিতে পারে না, সমাধান কেবল আল্লাহর হাতে।

‘আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা জানি’ এর ব্যাখ্যা
আয়াতের শেষ অংশে হজরত ইয়াকুব (আ.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তা জানি, যা তোমরা জান না।’ তাফসিরবিদগণের মতে, এই ‘অজানা বিষয়গুলো’ হতে পারে নিম্নরূপ:
১. আল্লাহ ওয়াদা করেছেন যে, তিনি আমাকে আমার হারানো সন্তানের সঙ্গে পুনরায় মিলিত করবেন।
২. আমি জানি, আল্লাহ তাআলা কায়মনোবাক্যে প্রার্থনাকারীর দোয়া ফিরিয়ে দেন না।
৩. আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহির মাধ্যমে জানি যে, ইউসুফ এখনো জীবিত।
৪. আমি বিশ্বাস করি, ইউসুফ ছোটবেলায় যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা সত্য হবেই।
৫. বিপদে ধৈর্য ধারণ করার কারণে আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন প্রতিদান আশা করি, যা তোমরা কল্পনাও করতে পারছ না। (তাফসিরে ফাতহুল কাদির)

সুতরাং, মুমিন মুসলমানের উচিত গভীর দুঃখ-বেদনায় ভেঙে না পড়ে হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর অনুসরণে আল্লাহর কাছেই নিজেদের ব্যথা-বেদনা ও কষ্টের কথা তুলে ধরা। চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করা। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলাই উত্তম প্রশান্তিদানকারী ও সব সমস্যার সমাধানকারী।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ