বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
এবারের হজে ৬৪০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করেছে সৌদি আরব ‘বাজেটের পরিধির চেয়ে নিত্য পণ্যের দাম কমার সংবাদ চায় জনগণ’  সরকারের ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা ‘ভারতে ধর্ম গ্রহণের স্বাধীনতা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত’ ‘যোগ্য দায়িত্বশীল হতে প্রয়োজন আদর্শিক ও দক্ষতার উন্নয়ন’ আল আকসার ঐতিহাসিক নিদর্শন সরানোর অপচেষ্টা ইসরাইলের, হামাসের সতর্কবার্তা আর্থিক খাতে রাজনীতি নয়, সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান ইলমি সংকট নিরসনে মাদরাসা দায়িত্বশীলদের জন্য কিছু কথা ১৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে পুলিশের জন্য গাড়ি কিনছে সরকার দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যমন্ত্রী

জুমার দিনের ফজিলত ও মর্যাদা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

জুমার দিন সপ্তাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিনও বলা হয়। এই দিনের প্রভূত মর্যাদা ও ফজিলত কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। যার কারণে দিনটি এত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ। এই দিনে রহমতের দরজা খুলে যায়, গুনাহ মাফের সুযোগ আসে, দোয়া কবুলের বিশেষ সময় থাকে। যে ব্যক্তি জুমাকে গুরুত্ব দেয়, তার জীবনে বরকত নেমে আসে; আর যে অবহেলা করে, সে আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহ থেকে নিজেকেই বঞ্চিত করে।

জুমার দিনের ফজিলত

জুমার দিনের ফজিলত অনেক বেশি। এ দিনের মর্যাদার বিষয়টি কুরআনের ঘোষণায় ওঠে এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং কেনাবেচা ত্যাগ করো। এটিই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা আল-জুমুআহ: আয়াত ৯)

হাদিসে জুমার মর্যাদা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ

‘সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন।’ (মুসলিম ১৮৫০)

আরেক হাদিসে এসেছে—

أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ فِيهِ سَاعَةٌ لاَ يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللهَ تَعَالَى شَيْئًا إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ وَأَشَارَ بِيَدِهِ يُقَلِّلُهَا

‘ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর দিন সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বলেন, এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে কোন মুসলিম বান্দা যদি এ সময় সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাকে অবশ্যই তা দিয়ে থাকেন এবং তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত।’ (বুখারি ৯৩৫, মুসলিম ৮৫২)

জুমার দিন কেবল একটি সাপ্তাহিক ইবাদতের সময় নয়; বরং এটি মুমিনের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত, ক্ষমা ও নিকটতার এক অনন্য উপহার। এই দিন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়— দুনিয়ার ব্যস্ততা যতই হোক, আল্লাহর ডাকই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যক্তি জুমার মর্যাদা উপলব্ধি করে আদব ও আমলের সঙ্গে এ দিনকে গ্রহণ করে, তার হৃদয় আলোকিত হয়, ঈমান নবায়ন হয় এবং জীবন পায় নতুন দিশা।

আসুন, আমরা জুমাকে অবহেলার নয়—ভালোবাসার দিন বানাই। ইবাদতের মাধ্যমে নিজেদের পরিশুদ্ধ করি, দোয়ার মাধ্যমে রবের দরবারে মাথা নত করি এবং এই বরকতময় দিনকে নিজেদের চরিত্র ও আমলের পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে গ্রহণ করি। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে জুমার দিনের প্রকৃত ফজিলত ও মর্যাদা উপলব্ধি করে তা যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ